সূর্যাষ্টক হলো সূর্য দেবের আরাধনায় নিবেদিত একটি শক্তিশালী আটটি শ্লোকের স্তোত্র, যা সাধারণত রবিবারে পাঠ করা হয়। এটি পাঠ করলে গ্রহদোষ, কষ্ট, রোগ, শোক ও দারিদ্র্য দূর হয় এবং সূর্যদেবের কৃপায় জীবন থেকে বাধা বিপত্তি দূর হয়ে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।প্রতিদিন এই সূর্যাষ্টক পাঠ করলে গ্রহদোষ দূর হয়, দরিদ্র ব্যক্তি ধনবান হয় এবং নিঃসন্তান ব্যক্তি সন্তান লাভ করতে পারে।
সূর্যাষ্টক :
আদিদেব নমস্তুভ্যং প্রসীদ মম ভাস্কর ।
দিবাকর নমস্তুভ্যং প্রভাকর নমোঽস্তু তে ॥১॥
হে আদিদেব (আদ্য দেবতা) তোমায় প্রণাম, হে ভাস্কর আমার ওপর প্রসন্ন হাও ! হে দিবাকর (দিনের উদয় ঘটানো দেবতা) তোমায় প্রণাম, হে প্রভাকর (পৃথিবীতে আলোক ছড়িয়ে দেওয়া দেবতা), তোমায় বারংবার প্রণাম।
সপ্তাশ্বরথমারূঢ়ং প্রচণ্ডং কশ্যপাত্মজম্।
শ্বেতপদ্মধরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্। ২৷৷
সপ্ত অশ্ববিশিষ্ট রথে আসীন, হস্তে শ্বেতকমলধারী, প্রচণ্ড তেজস্বী কশ্যপকুমার সূর্যকে আমি প্রণাম করি ৷
লোহিতং রথমারূঢ়ং সর্বলোকপিতামহম্।
মহাপাপহরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্ ।। ৩ ৷৷
রক্তবর্ণ, রথারূঢ়, সর্বলোকের পিতামহ, মহা- পাপহারী সূর্যদেবকে আমি প্রণাম করি ৷
ত্রৈগুণ্যং চ মহাশূরং ব্রহ্মবিষ্ণুমহেশ্বরম্।
মহাপাপহরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্। ৪ ৷৷
যিনি ত্রিগুণময় ব্ৰহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবরূপ, সেই মহাপাপহারী মহাবীর সূর্যদেবকে আমি নমস্কার করি ৷
বৃংহিতং তেজঃপুঞ্জং চ বায়ুমাকাশমেব চ।
প্রভুং চ সর্বলোকানাং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্ ॥৫॥
যিনি বৰ্দ্ধিত তেজঃপুঞ্জ এবং বায়ু ও আকাশস্বরূপ, সেই সকল লোকের অধীশ্বর সূর্যকে আমি প্রণাম করি।
বন্ধুকপুষ্পসঙ্কাশং হারকুণ্ডলভূষিতম্।
একচক্রধরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্ ।। ৬৷৷
যিনি বন্ধুক পুষ্পের ন্যায় রক্তবর্ণ এবং মালা ও কুণ্ডলে বিভূষিত, সেই একচক্রধারী সূর্যদেবকে আমি প্রণাম করি ৷
তং সূর্যং জগৎকর্তারং মহাতেজঃপ্রদীপনম্।
মহাপাপহরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্ ।।৭।।
মহাতেজের প্রকাশক, জগতের কর্তা, মহাপাপহারী সেই ভগবান সূর্যকে আমি প্রণাম করি ৷
তং সূর্যং জগতাং নাথং জ্ঞানবিজ্ঞানমোক্ষদম্।
মহাপাপহরং দেবং তং সূর্যং প্রণমাম্যহম্ ।। ৮ ॥
সূর্যদেব—যিনি জগতের নাথ, জ্ঞান- বিজ্ঞান ও মোক্ষ দাতা, সেই সঙ্গে মহাপাপ হরণকারী, তাঁকে আমি প্রণাম করি ৷
।। শ্রীশিবপ্রোক্তং সূর্যাষ্টকং সম্পূর্ণম।।
