এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ জানুয়ারী : কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ছাইভস্মের মধ্য থেকে শিউরে ওঠার মত চিত্র উঠে আসছে । আজ বৃহস্পতিবার ভস্মীভূত গোডাউনে আর্থ মুভার দিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় বেরিয়ে এসেছে আরও দুই হতভাগ্য শ্রমিকের হাড় । এনিয়ে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩। নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বারুইপুর হাসপাতালে দেহাংশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে । এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৫ জন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল যাওয়ার কথা রয়েছে, পরে নরেন্দ্রপুর থানার দিকে প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে । এদিকে নাজিরাবাদ এলাকায় বারুইপুর মহকুমা প্রশাসন ১৬৩ ধারা (আইপিসি-র ১৪৪ ধারা) জারি করায় “সত্য গোপন” করার অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী ।
যেটা জানা গেছে যে “ওয়াও মোমো” নামে ওই মোমো কারখানা দমকলের ছাড়পত্র ছিল না। রাতে চুরি ঠেকানোর অজুহাতে প্রায় পঞ্চাশজন শ্রমিককে ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখা হতো বলে অভিযোগ । এটা কোনো একদিনের ভুল নয়, এটা ছিল নাকি মোমো কারখানা নিয়ম। এদিকে
বুধবার আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ও কর্মীদের মৃত্যু নিয়ে একটা বিবৃতি জারি করেছে ওয়াও মোমো। সংস্থার তরফে একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মোট মাত্র ৩ জন কর্মীর নাকি মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পরিবার পিছু এককালীন ১০ লক্ষ টাকা এবং আজীবন মৃতদের পরিবারের সদস্যদের মাসোহারা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে । পাশাপাশি মৃতদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিচ্ছে সংস্থা। সেই সাথে গোটা ঘটনার দায় পাশের ডেকরেটার্স গুদামের উপরই চাপিয়েছে তারা । যদিও ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃতের পরিসংখ্যান নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ।
এদিকে টানা দু’দিন লড়াইয়ের পর ২৭ জানুয়ারি আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ধন্দ্ব রয়েছে । পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই ২৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। ডেকরেটার্স গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। রবিবার রাতে আগুন লাগার সময় গঙ্গাধরের ওই গুদামে ছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কেউ ফুলের কাজ করেন, কেউ আবার সাজানোর কাজে যুক্ত। বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁরা কাজে গিয়েছিলেন। কাজ সেরে তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কেউ আবার টুকিটাকি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আগুন লাগার পর কয়েক জন বার হতে পারলেও অনেকেই আটকে পড়েন।
এদিকে আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে ১৬৩ ধারা জারি করে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত নিষিদ্ধ করার নোটিসও সাঁটানো হয়েছে গার্ডরেলে ।পুলিশের দাবি, জমায়েতের কারণে ওই এলাকায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণে বারুইপুর আদালতের অনুমতি নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শনের ঘোষণার পরেই ১৬৩ ধারা জারি করায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি । মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ। আজ দুপুরেই মামলার শুনানির কথা ছিল ।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’সত্য গোপন করতেই রাজ্য সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন,’কেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছলেন ?’ উল্লেখ্য,ঘটনার কয়েকদিন পর মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়র ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সংবাদমাধ্যম তাকে কেন পরিদর্শনে আসতে এত দেরি হল জানতে চাইলে চরম ক্ষিপ্ত হন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই চলে যান ।।

