এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৬ মার্চ : সাম্প্রতিক লোকসভার ভোটে বিধানসভার ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গিয়েছিল যে বহু জায়গায় তৃণমূলের জয়ের ব্যাবধানের থেকে সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট অনেক বেশি । যেকারণে রাজ্যের অন্তত ৭০ টি বিধানসভায় বিজেপিকে পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে প্রায়ই দাবি করে থাকেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । এই কারনে তিনি সিপিএমের নামকরণ “ভোট কাটুয়া” করেছেন । শুভেন্দুর অভিযোগ যে সিপিএম বিশেষ করে হিন্দুদের ভোট কেটে তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দেয় ।
তবে শুধু মৌখিক অভিযোগ নয়,এবারে পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে এলেন রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি ও কলকাতা থেকে আইনজীবী তরুনজ্যোতি তিওয়ারি । তিনি এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল,’২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গে একটি কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে। তথাকথিত বিরোধী দল, Communist Party of India (Marxist) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট এবং তাদের সহযোগী Indian National Congress, বাস্তবে Mamata Banerjeeর All India Trinamool Congressকে সাহায্য করেছে বিরোধী ভোট ভাগ করে। কমপক্ষে ১৫টি লোকসভা কেন্দ্রে দেখা গেছে যে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান বামফ্রন্ট বা কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের থেকে অনেক কম। অর্থাৎ বিরোধী ভোট ভাগ না হলে ফল সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারত।’
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি লিখেছেন,’আরামবাগে তৃণমূলের ব্যবধান ৬৩৯৯। বাম ভোট ৯২৫০২।
মেদিনীপুরের ব্যবধান ২৭১৯১। বাম ভোট ৫৭৭৮৫।
বাঁকুড়ার ব্যবধান ৩২৭৭৮। বাম ভোট ১০৫৩৫৯।
কৃষ্ণনগরে ব্যবধান ৫৬৭০৫। বাম ভোট ১৮০২০১।
ব্যারাকপুরের ব্যবধান ৬৪৪৩৮। বাম ভোট ১০৯৫৬৪।
আসানসোলে ব্যবধান ৬৯৫৬৪। বাম ভোট ১০৫৯৬৪।
দমদমের ব্যবধান ৭০৬৬০। বাম ভোট ২৪০৭৮৪।
হুগলির ব্যবধান ৭৬৮৫৩। বাম ভোট ১৩৯৯১৯।
বর্ধমান-দুর্গাপুরের ব্যবধান ১৩৭৯৮১। বাম ভোট ১৫৩৮২৯। বর্ধমান পূর্বের ব্যবধান ১৬০৫৭২। বাম ভোট ১৭৬৮৯৯। শ্রীরামপুরে ব্যবধান ১৭৪৮৩০। বাম ভোট ২৩৯১৬০। যাদবপুরের ব্যবধান ২৫৮২০১। বাম ভোট ২৫৮৩৬৫। কলকাতা উত্তরের ব্যবধান ৯২৫৬০। কংগ্রেস ভোট ১১৪৯৮২। বারাসতের ব্যবধান ১১৪১৮৯। বাম এবং আইএসএফ ভোট ২২১৪৪০।কোচবিহারের ব্যবধান ৩৯২৫০। বাম কংগ্রেস ভোট ৪০৯৪৬।’
তরুনজ্যোতি লিখেছেন,হিসাবটা খুবই সহজ। যদি তৃণমূল বিরোধী ভোট ভাগ না হত, তাহলে ২০২৪ সালেই তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৯ থেকে নেমে মাত্র ১৪ হতে পারত। এটা নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটেছিল। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের ভোট ভাগাভাগির কারণে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরে আসে। ৯০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে বাম কংগ্রেস জোটের প্রাপ্ত ভোট বিজেপির হারার ব্যবধানের থেকে বেশি ছিল। ফলে Bharatiya Janata Partyর সম্ভাব্য জয় আটকে গিয়ে সেই আসনগুলো তৃণমূলের হাতে চলে যায়।’
তিনি লিখেছেন,’অর্থাৎ বহু ক্ষেত্রে তৃণমূলের টিকে থাকা সম্ভব হয়েছে বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার কারণে।পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেন যে তারা পরিবর্তন চান। কিন্তু প্রতিবারই সেই পরিবর্তন আটকে যায় যখন তৃণমূল বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যায়।’
তিনি রাজ্যের বামপন্থী সমর্থকদের কাছে আহ্বান জানান,২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে। বার্তা একটাই স্পষ্ট। তৃণমূলকে হারাতে হলে ভোট ভাগ হওয়া বন্ধ করতে হবে। যারা একসময় বামপন্থাকে সমর্থন করতেন, তাদের কাছে একটাই আবেদন। নিজেদের ভোট দিয়ে আর একটি দুর্বল হয়ে পড়া সরকারকে জীবনদান করবেন না। তৃণমূল বিরোধী ভোট এক হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ফল সম্পূর্ণ বদলে যাবে। ২০২৬ সালে প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলকে সরাতে হলে ভোট এক জায়গায় যেতে হবে। এবার ভোট হোক পদ্মফুলে।।

