এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ জানুয়ারী : গতকাল রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলি বাগদেবীর আরাধনায় মেতে উঠেছিল । কিন্তু পবিত্র এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি ঘিরে বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে বিতর্কের চিত্র । কোথাও উঠেছে সরস্বতী পূজোয় বাধাদানের অভিযোগ, কোথায় কলজে পূজো চলাকালীন তৃণমূল ছাত্রপরিষদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলেজ প্রাঙ্গন । উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দত্তপুকুর থানার ময়নাগডি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানার অন্তর্গত নিমদহ শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে এবারে সরস্বতী পূজো করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে । এছাড়া, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পন্ড হয়ে যায় পড়ুয়াদের আনন্দ । জেলায় জেলায় এই সমস্ত অশান্তির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে রাজ্য বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে । “মমতা ব্যানার্জির বাংলায় এখন সরস্বতী পূজাই যেন অপরাধ” বলে মন্তব্যও করা হয়েছে ।
আজ শনিবার রাজ্য বিজেপির ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় এখন সরস্বতী পূজাই যেন অপরাধ।তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে একের পর এক জায়গায় হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্কুল-কলেজে সরস্বতী পূজা করতে দেওয়া হচ্ছে না, ছাত্রছাত্রীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, আর কোথাও কোথাও রাস্তায় বসে পূজা করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
“কী ঘটেছে কোথায়”-এ অশান্তির খন্ডচিত্র তুলে ধরে লেখা হয়েছে,’বারাসাত: ময়নাগড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের স্কুল থেকে তালাবদ্ধ করে বের করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ স্কুলে প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে শিশুদের ফুটপাতে বসে সরস্বতী পূজা করতে বাধ্য করা হয়। এ কি বাংলা, না কি পাকিস্তান?
যোগেশচন্দ্র ল’ কলেজ: তৃণমূল নেতা দাউদ আলম মোল্লা ছাত্রদের হুমকি দেয়, “সরস্বতী পূজা বন্ধ করো, না হলে তোমাদের এলএলএম নষ্ট করে দেওয়া হবে।” গত বছর একই ধরনের হুমকির পর সাব্বির আলিকে যেভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল, সেটাই এখন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতি।
দিনহাটা কলেজ: তৃণমূলের নিজেদের ঝামেলায় কলেজে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই কারণে পুলিশ সরস্বতী পূজার মণ্ডপ খালি করতে বলে।
কামারহাটি: তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে একটি মন্দিরে তালা ঝুলে যায়, ফলে পূজা বন্ধ হয়ে যায়।”
সব শেষে লেখা হয়েছে,’সব মিলিয়ে ছবিটা পরিষ্কার:দাউদ আলম মোল্লার মতো তৃণমূল নেতারা জানেন-হিন্দু-বিরোধিতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষই এই দলে পদোন্নতির সবচেয়ে দ্রুত পথ। ভোটের স্বার্থে ‘পিসি’ যখন চণ্ডীপাঠের নাটক করেন, তখন তাঁর দলের ক্যাডাররা হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার পদদলিত করতে ব্যস্ত।এটা শুধুমাত্র তোষণনীতি নয়-এটি বাংলার মাটি থেকে সনাতন সংস্কৃতি মুছে ফেলার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।”
প্রসঙ্গত,গতকাল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজ । কলেজ প্রাঙ্গনের মধ্যে ছাত্রছাত্রীরা যখন দেবীর পূজোর জন্য জড়ো হয়েছিল, ঠিক তখনই সংঘর্ষ বাধলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । কলেজে আসা বহু ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে কার্যত লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে পুলিশ । ফলে পূজো ফেলে পালানোর জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ।।

