প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২১ মার্চ : পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ড বসিয়ে তার শিলান্যাস পর্ব বেশ ঘটা করেই সারা হয়েছিল। তারপর থেকে পেরিয়ে গিয়েছে দেড় বছরেরও বেশী সময়। তবু আজও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চকদিঘীতে অসম্পূর্ণই রয়ে আছে রাজ্য সরকারের মডেল প্রকল্প ’পথশ্রীর’ একটা রাস্তা তৈরির কাজ।তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ বিধানসভা ভোটের মুখে শাসক দলকে বেজায় অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। সেটা জানতে পেরে তৃণমূলকে পথশ্রী প্রকল্পের ’টাকা আত্মসাৎকারী’ দাবি করে বিজেপি নেতারা প্রচার শুরু করে দিয়েছে ।
চকদিঘী পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে রামচন্দ্রপুর থেকে রগের মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই রাস্তা অতীব বেহাল হয়ে পড়ায় তাঁদের ক্ষোভ চরমে ওঠে। সেটা টের পেয়ে নড়ে চড়ে বসেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্ণধারেরা। তাঁরা দেড় কিলোমিটার ওই রাস্তাটি পথশ্রী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করে পিচ (বিটুমিন) রাস্তার রুপ দেওয়ার কথা ২০২৪ সালে ঘোষণা করেন। এর পরেই ওই এলাকায় বসিয়ে দেওয়া হয় পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ড । সেই বোর্ডে রামচন্দ্রপুর পুল থেকে রগের মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩৯ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫২৬ টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা উল্লেখ থাকে। শাসক দলের নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা ওই রাস্তার কাজের শিলান্যাস করেন। সেই থেকে ওই বোর্ডে এখনো ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার তারিখ লেখা রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা শেখ কুরবান আলী,আব্দুল অহেদ,সোনালী মালিক,বেলা মালিকরা যদিও বলছেন,“পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ডে লেখা থাকা তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। তাঁদের অভিযোগ, “২০২৪ সালের ৭ জুলাইয়ের পর থেকে দেড় বছরের বেশী সময় পেরিয়ে গেছে।কিন্তু চকদিঘীর রামচন্দ্রপুর থেকে রগের মোড় পর্যন্ত “পিচ রাস্তা“ তৈরির কাজ আজ পর্যন্ত শুরুই হয় নি। ঠিকাদার শুধুমাত্র কিছু পিচের ড্রাম ও পাথর রাস্তার ধারে ফেলে পরে সেগুলি আবার তুলে নিয়ে চলে যান। তখন ঠিকাদার বলে যান,’এখন সমস্যা আছে।পরে পিচ রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে রাস্তাটির কোনও নির্মান কাজ আজ অব্দি হয় নি ।’
গ্রামবাসীরা জানান,এখন রামচন্দ্রপুর থেকে রগের মোড় পর্যন্ত গোটা রাস্তাটা মরণ ফাঁদের চেহারা নিয়েছে। তাই বিপদ মাথায় নিয়েই ওই রাস্তা দিয়ে তাঁদের যাতাযাত করতে হচ্ছে। এই পথে দুর্ঘটনাও লেগেই থাকে। বর্ষায় বিপদ আরো বহুগুন বেড়ে যায়’।পথশ্রীর এমন হতশ্রী দশা তৈরি হওয়ার কারণ জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খাঁনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছুই জানাতে পারেন না।তিনি শুধু জানান,কি কারণে পথশ্রী প্রকল্পের ওই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ এখনো হয় নি সেটা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন ।
তবে বিডিও(জামালপুর) পার্থসারথী দে এ নিয়ে যা জানান সেটা যথেষ্টই অবাক করে দেওয়ার মতন।বিডিও জানান,পথশ্রী প্রকল্পের ওই রাস্তাটি ১৫০০ মিটারের মধ্যে ৯০০ মিটার নাকি নির্মাণ হয়ে গিয়েছে। ’ডিসপুট’ থাকায় বাকি ৬০০ মিটার পিচ রাস্তা নির্মাণ কাজ হয় নি। তার টাকা সমিতির ফাণ্ডে জমা রয়েছে বলে বিডিও দাবি করেছেন। যদি বিডিও-র এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন চকদিঘী পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল। তিনি বলেন,“গ্রামবাসীদের করা অভিযোগই সঠিক। বিডিও যা দাবি করছেন সেটা মোটেই সত্য নয় গৌরবাবু বিডিও-র উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন,”যদি ওই পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ডে লেখা থাকা তথ্য অনুযায়ী রাস্তাটির নির্মাণ কাজ নাই হয়ে থাকে তাহলে কেন আজঅব্দি প্রকল্পের বোর্ডে লেখা থাকা তথ্য পরিবর্তন করা হয় নি?”
এমন ঘটনার কথা জেনে জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,”চাকরি চুরি,কয়লা চুরি,বালি চুরিতে সিদ্ধহস্ত তৃণমূলেরা নেতারা ওই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পুরো টাকাটাই মনে হয় আত্মসাৎ করে নিয়েছে।” নজিরবিহীন এই দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে বিজেপি জামালপুরে স্বোচ্চার হবে বলে মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র জানিয়েছেন ।।
