এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ এপ্রিল : দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং-১ ব্লক ও গোসাবা ব্লকে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন ধরালো বিজেপি । আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার ৬ মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে দু’দফায় এই যোগদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় । জেলা পরিষদে তৃণমূলের বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত প্রধান পর্যন্ত এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন৷ শুভেন্দু বলেন,’গোসাবা ব্লক থেকে আমরা তৃণমূলকে কার্তত শূন্য ঘোষণা করতে পারি । আমরা বলতে পারি যে গোসাবা ব্লকে এবারে মমতা ব্যানার্জিকে বইনি করতে দেবো না। সন্দেশখালি হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল এবারে পাবে না।’
যোগদান কর্মসূচির আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস তার রাজনৈতিক পথ, মত এবং সত্তা বিসর্জন দিয়ে এখন আইপ্যাক এবং পুলিশ নির্ভর একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে । স্বাভাবিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পুনরুত্থান হয়েছিল নন্দীগ্রাম পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ৷ সেই সময় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় বামপন্থী এবং এসইউসিআই-এর দুর্গ তছনছ করে যারা তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন তার মধ্যে অনেক নেতৃত্ব আজ নেই এবং অনেক নেতৃত্বকে আজ কার্যত বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বা অপমানিত করা হয়েছে৷’
তিনি বলেন,’বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে যারা যুক্ত ছিলেন তাদেরকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে । এটা রাজ্যসভার মনোনয়ন থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ এর আগে রাহুল দার মনোনয়নের সময় আমি বলেছিলাম সুব্রত বক্সীকে কার্যত অবসরে পাঠানো হয়েছে । ফোর্সফুল রিটায়ারমেন্ট । তার জায়গায় কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়রা দিল্লি গেছেন । এমনকি বাংলা-বাঙালি ইত্যাদি বলা অভয়াকান্ডে প্রমাণ লোপাট করা বিনীত গোয়েলকে যিনি বাঁচিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের লড়াই করে সেই মেনোকা গুরুস্বামীকেও রাজ্যসভায় পাঠাতে পিছপা হয়নি। তারপরে প্রার্থী তালিকায় দেখেছেন কিভাবে ঘাড় ধাক্কা খেয়েছেন খগেশ্বর রায়,রফিকুর রহমান,তপন চট্টোপাধ্যায় মিলে অসংখ্য জন ৷’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’কেউ বলেছে ৬৫ লাখ চেয়েছিল দিতে পারেনি । কেউ বলেছেন দু’কোটি চেয়েছিল দিতে পারেনি । কেউ বলেছিল আমার টাকা নেই তাই আইপ্যাক আমার নাম রেকমেন্ড করেনি । এই অবস্থা পরিণত হওয়ার পরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতাই নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে আসতে চেয়েছেন বা চান । এরকম আমার সঙ্গে, কেউ কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ কেউ শ্রমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে, অনেক স্তরে আলোচনা করেছেন৷’
তিনি বলেন,’আমরা স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করে, যাদের সঙ্গে বিজেপি সংগঠনের সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও চুরিচামারি, ছাপ্পা, ভোট, রিগিং, ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীদের ওপর সন্ত্রাস প্রভৃতি এমন কোন গুরুতর অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে নেই এবং বিশেষ করে বিশিষ্ট মানুষ, যারা এক সময় ৯৮ সালে জোটে লড়াই করেছেন, সেই নেতৃত্বকে আমরা যোগদান করাচ্ছি ।’ তিনি জানান,প্রথম পর্যায়ে মাননীয় ক্যানিং-১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শৈবাল লাহিড়ী,দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রাক্তন সহকারি সভাধিপতি (২০১৩ থেকে ১৮) এবং প্রাক্তন বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ , প্রাক্তন উপপ্রধান, প্রাক্তন প্রধানদের যোগদান করানো হয়েছে৷ দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার পরিষদের উপাধ্যক্ষের নেতৃত্বে গোসাবা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় সব বিজেপিতে যোগদান করেছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু । তিনি বলেন,’তিনজন পঞ্চায়েত প্রধানসহ গোসাবা ব্লক থেকে আমরা তৃণমূলকে কার্যত শূন্য ঘোষণা করতে পারি । আমরা বলতে পারি যে গোসাবা ব্লকে এবারে মমতা ব্যানার্জিকে বইনি করতে দেবো না। সন্দেশখালি হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল এবারে পাবে না। আজকে গোসাবার জয়েনিং এর মধ্য দিয়ে তার সূচনা আমরা করে দিলাম ।’।
