এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ জানুয়ারী : সোমবার ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় বিজেপির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে । পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা ও কাটোয়া থেকে শুরু করে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল পর্যন্ত হামলার অভিযোগ উঠেছে । এমনকি হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় খোদ তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে দলবল নিয়ে এসডিও কার্যালয়ে ঢুকে বিজেপির জমা দেওয়া ফর্ম ৭ ছিঁড়ে ফেলার পর্যন্ত অভিযোগ উঠেছে । আসানসোলে ফর্ম ৭ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের ক্যাডারদের বিরুদ্ধে । এই পরিস্থিতিতে ফর্ম ৭ জমার সময়সীমা আরও বাড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানাল বিজেপি।
প্রসঙ্গত,সোমবার(১৯ জানুয়ারী) ছিল ফর্ম ৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে ১৫ জানুয়ারী অব্দি সময় দেওয়া হয়েছিল । পরে চারদিন বাড়ানো হয় । কিন্তু সোমবার শেষ দিনে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমা শাসকের দপ্তরে ফর্ম ৭ জমা দিতে যাওয়া বিজেপি নেতাকর্মীদের তৃণমূলের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় । ফলে তারা ফর্ম জমাই করতে পারেননি । পার্শ্ববর্তী কাটোয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরের ভিতরেই বিজেপির উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে । হামলায় বিজেপির ৪-৫ জন কার্যকর্তা আহত হন বলে অভিযোগ । আসানসোল মহকুমা শাসকের দপ্তরে ফর্ম ৭ জমা দিতে যাওয়া নেতাকর্মীদের উপর তৃণমূল হিংসাত্মক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল । তিনি বলেছেন,’ফর্ম ৭ নিয়ে মহকুমা শাসকের অফিসে যাওয়ার পথে দলের লুম্পেন ক্যাডার দিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূল।এতে আমাদের যুব নেত্রী অঞ্জনা সিং ও অন্যান্য বহু নেতাকে মারধর এবং প্রাণঘাতী আঘাত করা হয়।প্রশাসন এর পরও কি শুধু দর্শকের ভূমিকা পালন করবে? পুলিশ মন্ত্রী? জবাব আছে? বিরোধী শূন্য করার এত ঘৃণ্য চক্রান্ত?’ অঞ্জনা সিংয়ের মাথা ফেটে যায় । তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে৷ পাশাপাশি “তৃণমূলের দাঙ্গাবাজরা SIR ফর্ম পুড়িয়ে দিয়েছে” বলে অভিযোগ অগ্নিমিত্রার ।
ফর্ম ৭ কি?
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গিয়েছে, ফর্ম ৭ হল ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার একটি অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম। এই ফর্মের মাধ্যমে ৩ ধরনের আবেদন করা যেতে পারে। প্রথমতঃ, কোনও ভোটারের নাম তোলার বিষয়ে আপত্তি তোলা যেতে পারে । দ্বিতীয়তঃ, নিজের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যেতে পারে৷ তৃতীয়তঃ, কোনো ব্যক্তি স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হলে বা তাঁর মৃত্যু ঘটলে সেই নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যেতে পারে৷ এই ফর্মের মাধ্যমে মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান হয়। তাই কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে, ভোটার স্থায়ীভাবে অন্য কোনও স্থানে চলে গেলে, ভোটারের একাধিক জায়গায় নাম থাকলে ও ভোটারের ভোটাধিকারের অধিকার না থাকলে এই ফর্ম ফিলআপ করা হয়। ভোটার তালিকাকে শুদ্ধ করার জন্যই এই ফর্ম। এর মাধ্যমে ভোটার লিস্ট থেকে জালিয়াতি দূর করা হয়।
ইতিমধ্যেই এসআইআর-এর এনুমারেশন পর্ব শেষ হয়েছে। বেরিয়ে গিয়েছে খসড়া ভোটার লিস্ট। তারপর সন্দেহজনক কিছু পেলে বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি) থাকলে ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকছে নির্বাচন কমিশন। আর এমন পরিস্থিতিতেই তৃণমূল কংগ্রেস বারবার বিতর্কের সৃষ্টি করছে এই ফর্ম ৭ নিয়ে । তৃণমূল বারবার দাবি করছে বিজেপির কাছে মজুত রয়েছে হাজার হাজার ফর্ম ৭। আর এমনটা হওয়ার পিছনে ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস । অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ যে তৃণমূল নিজেদের ভোটব্যাংকের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়ো ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দিতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এরাজ্যে এসআইআর-এর কাজে কতটা সফল হয় সেটাই দেখার বিষয় ।।

