এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট(পূর্ব বর্ধমান),০৩ মে : বর্ষায় নদীতে জলস্ফীতি হলে আশপাশের কৃষি জমিগুলি জলের তলায় চলে যায় । পরে নদীর জল কমলে জমিগুলিতে উর্বর পলির স্তর জমে । তবে পলির পাশাপাশি জমির মাটির একটু গভীরে রয়েছে মোটা দানার বালির স্তর । যার বর্তমান বাজারমূল্য অনেক । আর ওই বালির উপরেই এখন নজর পড়েছে বালি মাফিয়ারা । পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের কেওটসা গ্রামের কৃষকদের ওই সমস্ত জমিতে এখন হানা দিচ্ছে পার্শ্ববর্তী বীরভূম জেলার বালি মাফিয়ারা । কৃষকদের অজান্তেই মেশিন দিয়ে জমির মাটি খুঁড়ে সেই বালি তুলে নিয়ে তারা পালিয়ে যাচ্ছে নিজের জেলায় । এনিয়ে মঙ্গলকোটের ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ জানিয়েছেন কেওটসা গ্রামের বেশ কিছু কৃষক ।
পূর্ব বর্ধমান জেলা ও বীরভূম জেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে গিয়ে কাটোয়ায় ভাগিরথীতে মিশেছে অজয়নদ । মঙ্গলকোট ব্লকের কেওটসা,মালিয়ারা,চাকুলিয়া, আয়মাপাড়া, মাদপুর, বনপাড়াসহ একাধিক গ্রাম রয়েছে যেগুলি অজয় নদের পার্শ্ববর্তী । প্রতিবছর বর্ষায় ওই গ্রামের অধিকাংশ কৃষকদের কৃষি জমিগুলি অজয়ের জলে প্লাবিত হয় । ফলে বর্ষায় জমিগুলিতে চাষবাস বন্ধ থাকে । কিন্তু বন্যার জল সরে যাওয়ার পর জমিতে জমা উর্বর পলিতে বিভিন্ন শাকশব্জির চাষ হয় । যার উপার্জনেই মূলত ওই সমস্ত কৃষকদের গোটা বছরের সংসার খরচ চলে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন,অজয় নদের চরের কাছে তাদের ওই সমস্ত জমির মাটির কিছুটা নিচেই জমে আছে মোটা বালির স্তর । বর্তমানে সেই বালির উপর নজর পড়েছে বীরভূমের বালি মাফিয়াদের । মাফিয়ারা জেসিবি মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এনে ওই সমস্ত জমিগুলিতে হানা দিতে শুরু করেছে । প্রথমে তারা যন্ত্রের সাহায্যে মোটা পাইপ দিয়ে গর্ত করে বালির গভীরতা পরীক্ষা করছে । তারপর জেসিবি মেশিন দিয়ে জমির মাটি খুঁড়ে সেই বালি তুলে ডাম্পার বোঝাই করে পালিয়ে যাচ্ছে বীরভূমে । ফলে জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ।
তারা আরও জানান,প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনা ঘটলেও বীরভূমের দূর্বৃত্ত বালি মাফিয়াদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস করতে পারছে না কৃষকরা । ফলে তারা বাধ্য হয়ে মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন । কাটোয়া মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক অর্পিতা দাস বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন ।।

