এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৫ ডিসেম্বর : ছেলের পাত্রীর সন্ধান দেওয়ার নাম করে রাইস মিল মালিককে ডেকে এনে লুটপাটের পর আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় আরও ২ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার পুলিশ । পুলিশ ধৃতদের ভাতার থানার পাটনা গ্রামের বাসিন্দা আমির আলি শেখ ও পার্শ্ববর্তী বলগোনার বাসিন্দা মুজিবুল শেখ হিসাবে চিহ্নিত করেছে । এর সপ্তাহ দুয়েক আগে ভাতারের বামশোর গ্রামের বাসিন্দা জিয়ারুল শেখ ওরফে টুকাইকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ । তাকে হেফাজতে নিয়েই পুলিশ আমির ও মুজিবুলের হদিশ পায় । ধৃতদের আজ শুক্রবার বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয় । ধৃত দুজনরেরও টিআই প্যারেড হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ।
রাইস মিল মালিককে ডেকে এনে লুটপাট ও আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে গত আগষ্ট মাসের শেষের দিকে । ভাতারের ওই দুষ্কৃতী চক্রের ফাঁদে পড়া ওই রাইস মিল মালিকের নাম প্রাণগোপাল মণ্ডল ওরফে ধানুবাবু । তার বাড়ি মঙ্গলকোট থানার বামুনগ্রামের বাসিন্দা। আসলে, ছেলের বিয়ের জন্য একটি যোগ্য পাত্রী খুঁজলেন তিনি । ভালো পাত্রী দেখানোর নাম করে ওই দুষ্কৃতী চক্রটি ধানুবাবুকে ফোন করে ভাতারের ধাধলসা গ্রামে আসার জন্য বলে । কথামত তিনি নিজের চারচাকা গাড়িতে চড়ে সেখানে যান । কিন্তু ধাধলসা গ্রামে একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে ধানুবাবু আসতেই গাড়িটি হাইজ্যাক করে জনা ছয়েক অপরিচিত ব্যক্তি। এরপর মুরাতিপুর গ্রাম পেড়িয়ে ক্যানেলপুলের কাছে তাকে নিয়ে গিয়ে সোনার আংটি,হার সহ যাবতীয় অলঙ্কার কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা । তারপর গাড়িতে চাপিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে বামশোর গ্রামে একটি গোপন ডেরায় নিয়ে এসে আটকে রাখা হয় তাঁকে ৷ সেখানে আনার পর এক মহিলাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্লাকমেলিং করে দুষ্কৃতীরা ।
জানা গেছে,ওদিনই বাধ্য হয়ে ফোন থেকে ৫০ হাজার টাকা দুষ্কৃতীদের দেন সত্তরোর্ধ্ব ধানুবাবু । পরেরদিন সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে জানালে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে তিনি প্রথমে অভিযোগ জানাতে চাননি । কিন্তু ঘটনার দিন চারেক পর তিনি এনিয়ে ভাতার থানায় একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে প্রথমে বামশোরের বাসিন্দা জিয়ারুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । অভিযুক্তের টি আই প্যারেডের পর তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতেই সামনে আসে পাটনা গ্রামের বাসিন্দা আমির আলি শেখ ও বলগোনার বাসিন্দা মুজিবুল শেখের নাম । পুলিশ জানতে পেরেছে যে ওদিন দলে মোট ৬-৭ জন ছিল । পুলিশ বাকি দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ।।

