এইদিন স্পোর্টস নিউজ,১১ ফেব্রুয়ারী : খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ । পরিবর্তে তারা তাদের ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি জানায়৷ আইসিসি তাদের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ৷ কিন্তু বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিকল্প স্কটল্যান্ডকে বেছে নেয় আইসিসি৷ ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে ৷ তবে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারালেও এর মধ্যে “ক্রিকেটীয় রাজনীতি”তে নিজেদের “কুটনৈতিক জয়” খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল । মঙ্গলবার তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন,বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জটিলতা নিয়ে লাহোরে রবিবার আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রধান আমিনুল। ওই সভার পরদিনই আইসিসি জানায়, বিশ্বকাপে না খেলার জন্য কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা হবে না বিসিবিকে। এর পরপরই ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা থেকে সরে এসে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার।‘ এটিকে বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার জয় হিসেবে দেখে বোর্ডকে কুর্নিশ জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন,’তার পর দেখেন, তারা যে ক্রিকেট কূটনীতিটা করেছে, আল্টিমেটলি এখন আইসিসি বলছে, আমাদেরকে কোনোরকম শাস্তি-টাস্তি তারা দেবে না, বরং একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক তারা করবে। ব্রিলিয়ান্ট অ্যাচিভমেন্ট, স্যালুট টু দা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই এটিই নেওয়া উচিত।’
যদিও বাংলাদেশের মিডিয়া বলছে,বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার এমন দাবিও বিভ্রান্তিকর। ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশ, এটা চূড়ান্ত হয়ে গেছে ২০২১ সালেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরবর্তী ১০ বছরের সব আইসিসি টুর্নামেন্টের আয়োজক ঘোষণা করা হয়েছে তখনই।আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, আয়োজনের শর্ত পূরণ করতে পারলে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে বাংলাদেশকে। ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, সেটি হতে পারে ২০২৮ অনূধর্ব-১৯ বিশ্বকাপ । বিডি নিউজ ২৪ ডট কম মনে করছে,সত্যিই সেটি হলে বাস্তবিক অর্থে তা বড় কোনো অর্জন নয়। যুব বিশ্বকাপ আয়োজন করা আর্থিক দিক থেকে খুব লাভজনক নয়। শীর্ষ দেশগুলি এই আসর আয়োজনে তেমন আগ্রহ দেখায় না। ভারত যেমন ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হলেও ১৬ আসরে স্বাগতিক হয়নি একবারও। ইংল্যান্ডও কখনও আয়োজন করেনি এই আসর। অস্ট্রেলিয়া করেছে দুবার, সবশেষটি সেই ২০১২ সালে।
পাশাপাশি, ভারতে খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত বোর্ড নাকি মহম্মদ ইউনূস সরকারের ? তা নিয়েও উলটো সুর শোনা গেছে আসিফ নজরুলের গলায় । সংবাদ মাধ্যমটি লিখেছে, ১৯ দিন আগে তিনি বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সরকার। কিন্তু এখন তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন,’আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা—এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।’
বাংলাদেশের চাওয়া ছিল ভারত থেকে সরিয়ে ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিনের টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি।৩০ বছর পর তাই কোনো বিশ্বকাপ হচ্ছে বাংলাদেশকে ছাড়া।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম দর্শক তারা। বিশ্বকাপ না খেলায় কোনো আক্ষেপ আছে কি না, সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নে ক্রীড়া উপদেষ্টা মঙ্গলবার বললেন উল্টো কথা। “কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট… আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সিদ্ধান্তের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা দাবি বেশ সাংঘর্ষিক। ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় গত ৪ জানুয়ারি। গত ২০ জানুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস জানান, সিদ্ধান্তের আগে বা পরে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই করা হয়নি।
অবশেষে সিদ্ধান্তের ১৮ দিন পর গত ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, যেখানে ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্য কর্তাদের কয়েকজন। সেই বৈঠকের পরই ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটি সরকারের।।

