এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,০৪ জানুয়ারী : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামে ফ্রাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স(কেকেআর) যখন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নেয় তখন অন্যদিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছরের হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্মনিন্দার মিথ্যা অভিযোগে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় । যে কারণে ভারতের বৃহৎ সংখ্যক হিন্দুরা ওই বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে আইপিএল থেকে সরানোর দাবি তুলছিল । সম্প্রতি সাধুসন্তরাও একই দাবিতে কেকেআর-এর মালিক শাহরুখ খানের তীব্র নিন্দায় সরব হন । শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই-এর নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিতে বাধ্য হয় কেকেআর৷ কিন্তু নিজের দেশের ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে লাগাম টানার পরিবর্তে মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সরব হওয়া ভারতীয় হিন্দুদের “উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী” বললেন বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আসিফ নজরুল ।
মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের ওই কট্টর ইসলামি মৌলবাদী ক্রীড়ামন্ত্রী এই বিষয়ে এক্স-লিখেছে,’উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী হিসেবে, আমি ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে পুরো বিষয়টি আইসিসিকে ব্যাখ্যা করতে এবং চিঠি লিখতে বলেছি। বোর্ডের উচিত জানাতে হবে যে যেখানে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারে না, সেখানে পুরো বাংলাদেশি ক্রিকেট দল বিশ্বকাপে খেলতে নিরাপদ বোধ করতে পারে না। আমি বোর্ডকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার জন্য অনুরোধ করারও নির্দেশ দিয়েছি। আমি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশের আইপিএল খেলা সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছি! আমরা কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশি ক্রিকেট, ক্রিকেটার বা বাংলাদেশের প্রতি কোনও অপমান মেনে নেব না। দাসত্বের দিন শেষ !’
এদিকে এই ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গাঢ় করতে উদ্যোগী হয়ে মহম্মদ ইউনূসের সরকার । এই বিষয়ে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে একপ্রস্ত আলোচনা সেরে নিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, তৌহিদ হোসেন । দুই নেতা পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উন্নয়ন নিয়েও মতবিনিময় করেছেন এবং এই গতিশীলতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে ।।

