এইদিন ওয়েবডেস্ক,ব্যাঙ্কক,০৩ মার্চ : বিমসটেক সম্মেলনের আজ দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় থাই সরকারের দেয়া অফিশিয়াল নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে মহম্মদ ইউনূস বসতে পাওয়ায় বেজায় খুশি বাংলাদেশের মিডিয়া । বাংলাদেশের একাধিক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম সেই ভিডিও শেয়ার করেছে । যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক্স হ্যান্ডেলে শুধু জায়গা দেওয়া হয়েছে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রনেতাদের । সেখানে ইউনূসের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি৷ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন,’খুব বিশেষ অভ্যর্থনা! আমি প্রধানমন্ত্রী পেথংটার্নকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সিনাওয়াত্রা, যিনি আমাকে ত্রিপিটক পালির পালি সংস্করণ দিয়েছেন, তা সত্যিই একটি সুন্দর ভাষা। ভগবান বুদ্ধের শিক্ষাকে মূল বিষয়বস্তু হিসেবে রেখে। আপনারা সবাই জানেন যে, আমাদের সরকার গত বছর পালি ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। যা পালি ভাষার গবেষণা ও অধ্যয়নকে উৎসাহিত করতেও সাহায্য করে।’
অন্য একটি পোস্টে লিখেছেন,থাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিঃ থাকসিন সিনাওয়াত্রার সাথে দেখা করে আনন্দিত হলাম। শাসন ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ভারতের একজন মহান বন্ধু এবং অটলজির সাথেও তাঁর অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক ছিল। মিঃ সিনাওয়াত্রা এবং আমি ভারত-থাইল্যান্ড সহযোগিতা এবং এটি কীভাবে আমাদের নিজ নিজ দেশের জনগণের উপকার করে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি।’

এদিকে ‘সময়’ নামে বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের পোর্টালে লেখা হয়েছে,ব্যাংককের হোটেল সাংগ্রিলার সেই নৈশভোজে মোদি-ইউনূসের মধ্যে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি আন্তরিক বাক্য বিনিময় হয়। হাসিনা সরকার পতনের পর প্রতিবেশী দেশদুটির সরকারপ্রধানদের এটাই প্রথম সাক্ষাৎ।’ লেখা হয়েছে,বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি টানাপোড়েন চলছে দুদেশের সম্পর্কে, ফলে বিমসটেকের এই ডিনারের দৃশ্য বেশ আলোচিত এখন। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমধ্যামসহ দুদেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে এই ছবি।’
পরে নিজের দেশের অবৈধ সরকারের মুখ্য উপদেষ্টার গুণগান করে লেখা হয়েছে,সম্মেলনের শেষদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন এই দুই নেতা। একইদিন সম্মেলনের মূল ইভেন্টে দুটি চুক্তি সইয়ে অংশ নেবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।এদিকে থাইল্যান্ডে ব্যস্ত সময় কাটছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। ব্যাংককে পৌঁছেই তিনি হাজির হন বিমসটেক ইয়াং ফোরামের আলোচনায়। একক বক্তা হিসেবে তরুণদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন মূল ইভেন্টের কোনো কর্মসূচি না থাকলেও, থাই সরকারের বিশেষ অনুরোধে এই সেশনে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখান। বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে বিশ্ব বদলানো সম্ভব নয়। তাই পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান তার।
এ সময় তিনি তরুণদের চাকরি না করে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, নতুন সভ্যতা গড়তে হলে সামাজিক উদ্যোক্তা হতে হবে। এর আগে বিমসটেক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান থাইল্যান্ডের উর্ধতন কর্মকর্তারা ।।