এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০১ এপ্রিল : ইহুদি- বিদ্বেষী বাংলাদেশী জিহাদি ধর্মপ্রচারক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া। আজহারীর হল এমন একজন বাংলাদেশী জিহাদি ধর্মপ্রচারক,যে ইহুদিদের “বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল এবং অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে “ঐশ্বরিক শাস্তি” বলে প্রশংসা করেছিল, তাকে তার দেশব্যাপী বক্তৃতা সফরের মাঝপথে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের মতে, আজহারিকে এর আগে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল – সিডনি এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ধারাবাহিক ধর্মোপদেশ দেওয়ার জন্য তাকে ভিজিটর ভিসা দেওয়া হয়েছিল ।
আজহারির ঘটনাটি প্রথম ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেলে প্রকাশিত হয়। অনলাইনে তার ১ কোটি অনুসারী রয়েছে এবং তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। আজহারি তার ‘Legacy of Faith’ সিরিজের অংশ হিসেবে ইস্টারের ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন, যার মধ্যে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরায় তার কর্মসূচি ছিল।
২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক ধর্মোপদেশে মিজানুর রহমান আজহারী বিভিন্ন ইহুদি-বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করেন,২০১৩ সালে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাসের ইহুদি নরসংহারের প্রশংসা করেন, ইহুদিদের অমানবিক হিসেবে চিত্রিত করেন । তিনি আরও দাবি করেন যে, এইডস সহ বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইহুদিরা দায়ী এবং অভিযোগ করেন যে তারাই এই রোগটি আবিষ্কার করেছে।আজহারী তার বক্তৃতায় ইহুদিদের প্রতি হিটলারের নিষ্ঠুরতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
আশ্চর্যজনকভাবে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার ভিসা বাতিল করেনি বা তাকে ইহুদি ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা থেকে বিরত রাখেনি।তবে ২০২১ সালে, হিন্দু-বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কায় আজহারীর যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বাতিল করা হয়।মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা জামায়াতে ইসলামীর সাথে যোগাযোগ বজায় রাখায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আজহারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। একইভাবে, দেশের কয়েক ডজন বিদ্বেষপ্রচারককে থামাতে ব্যবস্থা নিতে ঢাকার কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক।।

