এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,১৭ ফেব্রুয়ারী : বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে ইসলামি জিহাদি অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনাকে অনৈতিকভাবে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসেন কথিত নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূস । তারপর থেকে বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি দেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে । তাদের মূল টার্গেট ছিল ভারত । ইউনূসের প্রচ্ছন্ন মদতে তারা সেভেন সিস্টার্স বলে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্ব সাত রাজ্য দখল করে “গ্রেটার বাংলাদেশ” গঠনের ডাক দেয় । শিলিগুড়ি করিডর বা “চিকেন নেক”-কে বিচ্ছিন্ন করে কিভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করবে,সেই পরিকল্পনাও করে ফেলে বাংলাদেশের ওই ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি । মহম্মদ ইউনূসের গলাতেও বারবার শোনা গিয়েছিল ভারতের “সেভেন সিস্টার্স” দখলের কথা । সোমবার রাতে বিদায়ী ভাষণে ফের একবার সেভেন সিস্টার্স-এর কথা উল্লেখ্য করলেন তিনি । অবশ্য এবারে তার নবতম সংযোজন দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল ও ভুটান।
গতকাল ইউনূস তার ভাষণে বলেন,’খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয় । এই যে বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা । নেপাল-ভুটান ও সেভেন সিস্টার্স-কে নিয়ে এই অঞ্চলে অর্থনীতির সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে । অর্থনৈতিক অঞ্চল, বানিজ্যিক চুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে ওঠার শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে ।’
প্রসঙ্গত,ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নামে জিহাদি অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সরকারকে অনৈতিকভাবে উৎখাত করা হয় । আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসন অবসানের পর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া জিহাদি ছাত্রনেতাদের আমন্ত্রণে ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস।এই সরকারের তত্ত্বাবধানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যাতে বড় জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দাক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ হবে ।
ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করা অবাস্তব চিন্তা : বিএনপির মহাসচিব
কিন্তু ইউনূসের বিদায়ী ভাষণের আগেই ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেভেন সিস্টার্স দখল করা বাংলাদেশি জিহাদি গোষ্ঠীগুলিকে আয়না দেখিয়েছেন সরকার গঠন করতে চলা দল বিএনপি-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন,’ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং এ ধরনের চিন্তা বাস্তবসম্মত নয় । ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ যুদ্ধ করতে পারবে না। যারা যুদ্ধের কথা বলেন তারা পাগলের মতো কথা বলেন।’
মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যুদ্ধ নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনাই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বছর গঙ্গা জল বন্টন চুক্তি নবায়নের সময় ফারাক্কা বাঁধের জলবণ্টন ইস্যু আবার সামনে আসবে। পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে। ভারতের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।
প্রসঙ্গত,গত বছরের ২৮শে মার্চ প্রথম চীন সফরের সময় ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ বা উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মহম্মদ ইউনূস । ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স ‘ল্যান্ডলকড’ বা স্থলবেষ্টিত একটি অঞ্চল এবং ওই অঞ্চলে ‘সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক’ বাংলাদেশ । তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যের জন্য এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। সুতরাং এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণও হতে পারে। পণ্য তৈরি করা, উৎপাদন করা, বিপণন করা এবং তা আবার চীনে নিয়ে যাওয়া এবং বাকি বিশ্বে তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ হতে পারে এখানে।
তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদঈর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ভারতের সাতটি রাজ্য ল্যান্ডলকড হওয়ার তাৎপর্য আসলে কী?’ তিনি ইউনূসের বক্তব্য শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তথাকথিত গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান সর্বদাই ভারতের বিরুদ্ধে আক্রমণ ছিল।’ পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের প্রাক্তন হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্যকে ‘অবাক করা’ বলে অভিহিত করেন এবং নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘উত্তর–পূর্বাঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ইউনূসের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’।

