অষ্টাবক্র গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ে রাজা জনক আত্মোপলব্ধির পর নিজের অদ্বৈত স্বরূপ বর্ণনা করেছেন। এখানে জগৎকে অসার, আত্মাকে অসীম এবং একমাত্র সত্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। জ্ঞানীর দৃষ্টিতে ত্যাগ বা গ্রহণের কোনো বিষয় থাকে না, কারণ তিনি নিজেকে মহাকাশের মতো অসীম এবং সমুদ্রের মতো পূর্ণ দেখেন ।
জনক উবাচ ॥
আকাশবদনংতোঽহং ঘটবত্ প্রাকৃতং জগত্ ।
ইতি জ্ঞানং তথৈতস্য ন ত্যাগো ন গ্রহো লয়ঃ ॥৬-১॥
মহোদধিরিবাহং স প্রপংচো বীচিসন্নিভঃ ।
ইতি জ্ঞানং তথৈতস্য ন ত্যাগো ন গ্রহো লয়ঃ ॥৬-২॥
অহং স শুক্তিসংকাশো রূপ্যবদ্ বিশ্বকল্পনা ।
ইতি জ্ঞানং তথৈতস্য ন ত্যাগো ন গ্রহো লয়ঃ ॥৬-৩॥
অহং বা সর্বভূতেষু সর্বভূতান্যথো ময়ি ।
ইতি জ্ঞানং তথৈতস্য ন ত্যাগো ন গ্রহো লয়ঃ ॥৬-৪॥
ষষ্ঠ অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য :
অসীম আত্মস্বরূপ: আমি আকাশবৎ অসীম, জগত একটি কলস বা ঘটের মতো—এই উপলব্ধিই জ্ঞান ।
অদ্বৈতবাদ: আমি সমুদ্রের মতো, জগতের বৈচিত্র্য তরঙ্গের মতো। আমি সুবর্ণের মতো, গহনা তার রূপ মাত্র ।
ত্যাগ ও গ্রহণ: যখন আত্মা ও জগতের এই অদ্বৈত সত্য উপলব্ধি হয়, তখন ত্যাগের বা গ্রহণের কিছু অবশিষ্ট থাকে না ।
সার্বভৌম জ্ঞান: “আমি সবভূতে আছি এবং সবভূত আমাতে অবস্থিত” —এই পরম জ্ঞান লাভই এই অধ্যায়ের সার কথা।
এই অধ্যায়ে জনক নিজের আত্মার স্বরূপ প্রকৃতির সাথে তুলনা করে অদ্বৈতবাদের চরম শিখর বর্ণনা করেছেন ।।
