অষ্টাবক্র গীতার সপ্তম অধ্যায় (সপ্তমোঽধ্যায়ঃ) রাজা জনকের আত্মোপলব্ধি এবং অদ্বৈতানুভূতির একটি সুন্দর বর্ণনা, যেখানে তিনি নিজেকে অসীম, শান্ত এবং শুদ্ধ চৈতন্য হিসেবে উপলব্ধি করেছেন । এই ৫টি শ্লোকের অধ্যায়ে জনক অনুভব করেন যে জগত তাঁর মধ্যে মায়ার মতো প্রতিভাত হচ্ছে, এবং তিনি দেহ-মনের ঊর্ধ্বে ।
জনক উবাচ ॥
ময়্যনংতমহাংভোধৌ বিশ্বপোত ইতস্ততঃ ।
ভ্রমতি স্বাংতবাতেন ন মমাস্ত্যসহিষ্ণুতা ॥৭-১॥
ময়্যনংতমহাংভোধৌ জগদ্বীচিঃ স্বভাবতঃ ।
উদেতু বাস্তমায়াতু ন মে বৃদ্ধির্ন চ ক্ষতিঃ ॥৭-২॥
ময়্যনংতমহাংভোধৌ বিশ্বং নাম বিকল্পনা ।
অতিশাংতো নিরাকার এতদেবাহমাস্থিতঃ ॥৭-৩॥
নাত্মা ভাবেষু নো ভাবস্তত্রানংতে নিরঞ্জনে ।
ইত্যসক্তোঽস্পৃহঃ শান্ত এতদেবাহমাস্থিতঃ ॥৭-৪॥
অহো চিন্মাত্রমেবাহমিংদ্রজালোপমং জগত্ ।
ইতি মম কথং কুত্র হেয়োপাদেয়কল্পনা ॥৭-৫॥
সপ্তম অধ্যায়ের মূল সারসংক্ষেপ :
অসীম সমুদ্র ও তরঙ্গ: জনক নিজেকে অসীম সমুদ্রের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে জগত তরঙ্গের মতো ভেসে ওঠে ও মিশে যায়, কিন্তু তাতে সমুদ্রের কোনো বৃদ্ধি বা ক্ষতি হয় না ।
স্বপ্নবৎ জগৎ: তিনি জগতকে ইন্দ্রজাল বা জাদুকরের খেলার মতো অসার ও মিথ্যা মনে করেন, যা তাঁর আত্মস্বরূপে কোনো বিকার সৃষ্টি করে না ।
নির্লিপ্ত অবস্থা: “অতিশান্তো নিরাকার…” – আমি শান্ত এবং নিরাকার, এই অনুভূতিতে তিনি স্থিত ।হয়-উপাদেয় বর্জন: আত্মস্বরূপের উপলব্ধির পর তাঁর মধ্যে ভালো-মন্দ বা বর্জন-গ্রহণের কোনো কল্পনাই আর থাকে না ।।
