অষ্টাবক্র গীতার চতুর্থ অধ্যায়ে রাজা জনক আত্মজ্ঞান বা আত্মোপলব্ধির পর তাঁর নিজের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। এই অধ্যায়ে জনক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ব্রহ্মজ্ঞানী পুরুষ যখন আত্মাতে মগ্ন থাকেন, তখন সংসার বা জাগতিক বিষয়গুলো তাঁর কাছে খেলনা বা লীলা মাত্র। মূর্খরা বা অবিবেকী ব্যক্তিরা সংসারের বন্ধনে আবদ্ধ, কিন্তু মুক্ত পুরুষ দেহ ধারণ করেও অসংলগ্ন।
জনক উবাচ ॥
হংতাত্মজ্ঞানস্য ধীরস্য খেলতো ভোগলীলয়া ।
ন হি সংসারবাহীকৈর্মূঢৈঃ সহ সমানতা ॥ 4-1॥
যত্ পদং প্রেপ্সবো দীনাঃ শক্রাদ্যাঃ সর্বদেবতাঃ ।
অহো তত্র স্থিতো যোগী ন হর্ষমুপগচ্ছতি ॥ 4-2॥
তজ্জ্ঞস্য পুণ্যপাপাভ্যাং স্পর্শো হ্য়ংতর্ন জায়তে ।
ন হ্য়াকাশস্য ধূমেন দৃশ্যমানাপি সংগতিঃ ॥ 4-3॥
আত্মৈবেদং জগত্সর্বং জ্ঞাতং যেন মহাত্মনা ।
যদৃচ্ছয়া বর্তমানং তং নিষেদ্ধুং ক্ষমেত কঃ ॥ 4-4॥
আব্রহ্মস্তংবপর্য়ন্তে ভূতগ্রামে চতুর্বিধে ।
বিজ্ঞস্যৈব হি সামর্থ্যমিচ্ছানিচ্ছাবিবর্জনে ॥ 4-5॥
আত্মানমদ্বয়ং কশ্চিজ্জানাতি জগদীশ্বরম্ ।
যদ্ বেত্তি তত্স কুরুতে ন ভয়ং তস্য কুত্রচিত্ ॥ 4-6॥
চতুর্থ অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু (জনক উবাচ):
আত্মজ্ঞানী ও মূর্খের পার্থক্য (৪-১): আত্মজ্ঞানী ধীর ব্যক্তি যখন জগতের ভোগলীলায় মগ্ন থাকেন, তখনও তিনি সংসারের বাহক মূর্খদের (যাঁরা অজ্ঞানতায় আবদ্ধ) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকেন।
ইন্দ্রাদিসহ দেবগণের দীনতা (৪-২): ইন্দ্রাদি দেবতারাও যে পদের (আত্মজ্ঞান) জন্য দীনভাবে প্রার্থনা করেন, সেই পদ একজন জ্ঞানীর কাছে অতি সাধারণ ও প্রাপ্ত।
অহংবোধ ও বাসনার বিনাশ (৪-৩): যার হৃদয়ে সর্বব্যাপী ও অদ্বৈত আত্মা বিরাজিত, তার কাছে কোনো বন্ধন বা মোক্ষ—কোনোটির জন্যই আর কোনো চিন্তা থাকে না।
অহংকারের অভাব (৪-৪): যিনি অদ্বৈত আত্মাকে জেনেছেন, তাঁর কাছে এই শরীর বা জগত—কোনো কিছুই সত্য নয়, তাই তাঁর কোনো বিশেষ কামনা বা বাসনা অবশিষ্ট থাকে না।
সংক্ষেপে, এই অধ্যায়ে জনক নিজের অদ্বৈত অনুভূতি ও অজ্ঞানতার বিনাশের পর জাগতিক বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীনতা ও মুক্তির আনন্দ প্রকাশ করেছেন।।
