এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ ডিসেম্বর : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হওয়া থেকেই অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা।আরও নির্দিষ্ট করে বললে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান কার্যত ত্রাসের সৃষ্টি করে রেখেছে । মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্য ফলতায় তৃণমূলের জাহাঙ্গীরের সশস্ত্র বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে । ফলতার এক বুথ লেভেল অফিসারের(বিএলও) অডিও ক্লিপ এক্স-এ ভাইরাল করে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ।
পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’এসআইআর (SIR) এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। তাই তার প্রশাসন কে দিয়ে মৃত ভোটারদের নাম যাতে কাটা না যায়, আর ভোটের সময় তার শান্তির বাহিনী কে দিয়ে ঐ ভোটগুলি যাতে ছাপ্পা মেরে জেতা যায় সেই পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সে গুড়ে বালি।
নিচের অডিওটি সকলে শুনুন, আর দলদাস প্রশাসনের কীর্তি দেখুন। এই ভয়েস ক্লিপিংটি ফলতার-ই একজন BLO এর যিনি পরিষ্কার অভিযোগ করছেন ফলতার BDO ও ARO, গতকাল বিকেল ৩ টের পর সমস্ত BLO দের ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো মৃত ব্যক্তির নাম কাটা যাবে না। অথচ পরিবারের লোক মৃতদের এনুমারেশন ফর্মে ডিক্লিয়ারেশন দিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। সেই ফর্ম ও আপলোড করা যাবে না। BLO -দের বলা হচ্ছে ফর্মগুলি আপলোড না করে আনম্যাপিং করে ছেড়ে দিতে, কেনো? যাতে পরে জচ্চুরী করা যায়। এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
এদিকে জাহাঙ্গীর বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে BLO দের হাতে কোনো ডেথ সার্টিফিকেট দেবেন না। অর্থাৎ খেলাটা খুব পরিষ্কার BDO, ARO এদেরকে ব্যবহার করে, গুন্ডা দিয়ে ধমকে চমকে মৃত ভোটারদের কে ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার একটা প্রচ্ছন্ন অপচেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও লিখেছেন,’আমি সাধারণ মানুষ এবং BLO দের বলব আপনারা ভয় পাবেন না। আইনের আওতায় থেকে আপনারা সকলে SIR -এর কাজে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করুন। তৃণমূলের দলদাস BDO এবং ARO দের বলব আপনারা সাবধান হন, নচেৎ এর ফল আপনাদের ভুগতে হবে। বিজেপি গোটা বিষয়টার উপর নজর রাখছে, এবং আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করব এই গুরুতর অভিযোগটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে BDO এবং ARO দের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’ তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের ট্যাগ করেছেন ।
প্রসঙ্গত,দীর্ঘদিন ধরেই জাহাঙ্গির তৃণমূল করে আসছে । কিন্তু ২০২০ সাল থেকে এলাকায় কার্যত ত্রাসের সৃষ্টি করে রেখেছে এই জাহাঙ্গীর । সে বছর থেকে জাহাঙ্গিরই এলাকায় শেষ কথা হয়ে ওঠেন। তরুণ নেতা, তবে তাঁর কথায় এলাকার বর্ষীয়ান নেতারাও গণ্য করেন বলে জানা যাচ্ছে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসায় নাম জড়ায় তাঁদের। ২০২১ সালের পর খুন, ধর্ষণ, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, অধিকাংশ অভিযোগে এফআইআর-ও হয়নি । কারন জাহাঙ্গীরের বাহিনীর হাতে খুন হয়ে যাওয়ার ভয় । ২০২৪ সালে বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ তোলে।
এর আগেও ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি । ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়া অভিজিৎ দাস ওরফে ববিকে। তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমে বারবার জাহাঙ্গির খানের নাম উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। অতি সম্প্রতি তিনি পোস্ট করে অভিযোগ করেছেন, ফলতার বিডিও-কে চাপ দিয়ে জাহাঙ্গির মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় তোলাচ্ছেন। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে রীতিমতো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এবার ২০২৫ সালে এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। অভিযোগ, জাহাঙ্গির প্রভাব এতটাই যে তিনি বিডিও-কেও প্রভাবিত করতে পারে। কমিশনের কাজ দেখতে রাজ্যে এসআইআর-এর স্পেশ্যাল ১৩! অভিষেক ব্যানার্জির ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের ফলতায় বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত । সেই সময় নির্বাচন কমিশনের দলের উপর জাহাঙ্গিরের মহিলা বাহিনী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী । এজন্য প্রতি মহিলাকে ওই তৃণমূল নেতা ৫০০ টাকা করে দিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি । যদিও শেষ অব্দি হামলা হয়নি৷ এদিকে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত মৃত ভোটারদের নাম না তোলায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএলও-দের কাছে৷ তিনি কঠোর পদক্ষের হুমকি দিলে বিএলও-রা রাতারাতি মৃত ভোটারদের নাম তুলতে শুরু করেন । এরপর ফলতার বিডিও বিএলও দের মৃত ভোটারদের নাম তুলতে নিষেধ করে দেন বলে ভাইরাল ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে ।।

