এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ মার্চ : বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারনে প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) । ফের তার একটা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে৷ দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির ধর্ণামঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় মহুয়া বলেছেন,’যে এখন, আজকে তৃণমূলের সাথে নয় সে কিন্তু বাঙালিই নয় । তার বাংলায় থাকারই অধিকার নেই । মমতাদি আছেই বলে এই লড়াইটা আজকে তিনি এই পর্যায়ে….কেউ অন্য জায়গায় হলে না লেজ গুটিয়ে বাড়ি চলে যেত । বলে এল শেরনী শ লঙ্গুর । এই মমতাদি হলে একমাত্র শেরনী,আর বিজেপির ১০০ টা লঙ্গুর । আর কেউ-উ-উ-উ নেই ।’
মহুয়া বলেন,’গতবার ১৯-শে মতুয়ারা আমাদের সাথে ছিল না । আপনাদের কতকিছু ঘোল খাইয়েছিল । বলেছিল এনআরসি হবে । সিএএ হবে । কিন্তু কি হল? আজকে ৩২ লক্ষ আনম্যাপডের মধ্যে ২০ লক্ষের বেশি মতুয়া । আপনাদের কিভাবে আনবে এখন ? এখন মমতা ব্যানার্জির লড়াইয়ের মাধ্যমেই তো আপনারা ফিরবেন । বিজেপি কি করেছে ? সেটা আপনারা ভাববেন না ?’
এরপর হুমায়ুন কবিরের নাম না করে তিনি বলেন, ‘আজকে ওই একটা আমাদের ছিল, বিজেপি করেছে কংগ্রেসে করেছে আমাদের দলে ছিল,রেজিনগর থেকে দাঁড়িয়েছ, এখন ভাল্লুকের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে আর সব জায়গায় পার্টি অফিস করে বেড়াচ্ছে ।’ ফের মহুয়া পুনরাবৃত্তি করেন,’আবার বলছি,যে তৃণমূলের সাথে নয়, সে কিন্তু বাঙালিই নয় । তার বাংলায় থাকারই অধিকার নেই ।’
পালটা তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে জীবন জীবিকা হারানো মানুষদের প্রসঙ্গ টেনে এনে রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি তরুনজ্যোতি তিওয়ারি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ‘তাহলে তারাও কি বাঙালি নয়?’ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,’তৃণমূল নেত্রী Mahua Moitra বলেছেন, যারা তৃণমূলের সাথে নেই তারা নাকি বাঙালি নয়। তাহলে কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। যাদের সর্বস্ব লুট হয়ে গেছে তৃণমূলের দুর্নীতিতে, তারা কি মঙ্গল গ্রহের মানুষ ছিল?যারা চাকরির আশায় পড়াশোনা করে শেষে শিক্ষা দুর্নীতির শিকার হয়েছে, তারা কি বাঙালি নয়? Bogtui Massacre-এ যাদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হলো, যাদের বোমা মেরে হত্যা করা হলো, তারা তো অধিকাংশই তৃণমূলের লোক ছিল। তাহলে তাদেরই কেন মরতে হলো? তারা কি বাঙালি ছিল না?’
তিনি লিখেছেন,’চাকরি বিক্রির কেলেঙ্কারি, স্কুল সার্ভিস কমিশন দুর্নীতি, কলেজ সার্ভিস কমিশনে অনিয়ম, রেশন চাল চুরি, গরু পাচার, কয়লা পাচার, শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার লেনদেন — এই সব দুর্নীতির ফলে যাদের জীবন ও স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেছে, তারা কি বাঙালি নয়?
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি যাদের পাওয়ার কথা ছিল, তৃণমূলের কাটমানি ও দুর্নীতির জন্য তারা বঞ্চিত হয়েছে। তারা কি মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দা?Mamata Banerjee সরকারের শাসনে এমন পরিস্থিতি যে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পর্যন্ত পায় না। এমনকি Mahua Moitra-র নিজের লোকসভা এলাকার মানুষও চিকিৎসা ও উন্নয়নের মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তারা কি চাঁদে থাকে?’
তরুনজ্যোতি তিওয়ারি লিখেছেন,’আসলে তৃণমূল এখন নতুন একটি রাজনৈতিক নাটক শুরু করতে চলেছে — “বাঙালি অস্মিতা”।মুখে বাঙালির কথা বলবে, কিন্তু রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাঠাবে অন্য রাজ্যের লোকজনকে। মুখে বাঙালির গৌরবের কথা বলবে, আর বাস্তবে দিনরাত লুট করবে সাধারণ বাঙালিদের। সত্যিটা খুব পরিষ্কার। আজ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল মানেই দুর্নীতি —চাকরি বিক্রি,রেশন চুরি, কাটমানি,সিন্ডিকেট রাজ,গরু পাচার,কয়লা পাচার,
প্রকল্পের টাকা লুট,আর প্রশাসনের সম্পূর্ণ অপব্যবহার।ধর্মতলায় এখন যা চলছে, সেটা কোনও গণআন্দোলন নয়। এটা আসলে দুর্নীতিবাজদের পুনর্মিলন, অর্থাৎ চোরদের রিইউনিয়ন। কারণ পশ্চিমবঙ্গে আজ একটা কথাই মানুষের মুখে মুখে —ভদ্র লোক তৃণমূল করে না। তৃণমূল মানেই দুর্নীতি আর লুটের রাজনীতি।’।

