এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),১১ মার্চ : এলাকায় রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা । ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে পুলিশ ক্যাম্প । তাসত্ত্বেও সিসিটিভি ক্যামেরায় কাদা লেপে দিয়ে মন্দিরের একাধিক গেটের তালা ভেঙে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে । মঙ্গলবার রাতে প্রনামী বাক্সের নগদ টাকা সহ বেশ কয়েক লক্ষ টাকার দেবীর অলঙ্কার লুটপাট চালিয়ে পালিয়েছে দুস্কৃতীদল। এর আগেও একাধিকবার অট্টহাস মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে । মন্দিরে প্রায় নিয়মিত ব্যবধানে বারবার চুরির ঘটনা ঘটে চলায় পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার বাসিন্দারা ।
কেতুগ্রামের নিরোল বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ফাঁকা জায়গায় জঙ্গলঘেরা এলাকায় রয়েছে কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে । হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এই পীঠ অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে মনে করা হয় । পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবী সতীর অধর অর্থাৎ ঠোঁটের নিম্নাংশ এই জায়গায় পড়েছিল। সেই কারনে দেবী এখানে অধরেশ্বরী নামে পূজিতা হন। হিন্দু শাস্ত্র মতে,যেকোনো সতীপীঠের পাশে নদী ও শ্মশান থাকা আবশ্যক। কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি । দেবীর মন্দিরের উত্তরে বয়ে গিয়েছে ঈশানী নদী। অদূরেই রয়েছে মহাশ্মশান। অট্টহাস মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন দন্তুরা চামুণ্ডা। তবে ভক্তদের কাছে দেবী রটন্তীকালী বলে পরিচিত । অট্টহাস মন্দিরের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যের কারছে প্রায় সারাবছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর শ্রদ্ধালু মন্দিরে পূজো দিতে আসেন।
আজ সকালে দেবীর নিত্যসেবার পূজো করতে এসে মন্দিরের পূজারী রামজী মহারাজ এসে দেখেন মন্দিরের একাধিক গেটের তালা ভাঙা । প্রনামী বাক্স উধাও ৷ এরপর তিনি মন্দিরের ভিতরে ঢুকলে দেখতে পান যে দেবী মূর্তির পোশাক লণ্ডভণ্ড করা এবং খুলে নেওয়া হয়েছে দেবীর সমস্ত গহনা৷ পূজারী বলেন,’দেবীর মাথার মুকুট, পায়ের তোড়া, গলার হার থেকে আরও বেশকিছু গহনা চুরি হয়ে গিয়েছে। প্রনামী বাক্স চুরি করে নিয়ে গিয়ে টাকাপয়সা বের করে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গিয়েছে।’
এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে মন্দিরের ভিতরে সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি, বাইরে সিভিক ভলান্টিয়ারদের পাহারার মধ্যেই কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে । মন্দিরের একাধিক তালা ভেঙে দেবীর অলঙ্কার-সহ প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা সামগ্রী লুট করে পালায় দুষ্কৃতীরা। মন্দিরের সামনে বসে পুজোর ডালা বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দা সার্থক রায় । তিনি বলেন, ‘মন্দিরের সামনে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার উপর কাদা লেপে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা । সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল যে মন্দিরের কিছুটা পাশেই পুলিশ ক্যাম্প । তার পরেও দুষ্কৃতীরা পুলিশের নাকের ডগায় একটা সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে লুটাপাট চালিয়ে পালাতে পারে ?’ তার আরও অভিযোগ যে শুধু দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাই নয়,তারা এতটাই বেপরোয়া যে মন্দির চত্বরে ঢুকে নানাভাবে উত্যক্ত করে । কিছুদিন আগে এখানে উৎসব ও মেলার সময় আমাদের গাড়িগুলো ভাঙচুর করে নদীতে ফেলে দেয় কিছু দুস্কৃতী।’ এনিয়ে কেতুগ্রাম থানার পুলিশের ভূমিকায় তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । এদিকে মন্দিরে চুরির পর যথারীতি তদন্তে আসে পুলিশ । কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন যে এবারেও পুলিশ চুরির কিনারা করতে পারবে না । কারন,২০১৯ সালের মে মাসে কেতুগ্রামের সতীপীঠ অট্টহাস মন্দিরে চুরির কিনারা পুলিশ আজও করতে পারেনি বলে তাদের অভিযোগ ।।
