রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তামিলনাড়ুর হিন্দুত্ববাদের ব্রান্ড কে. আন্নামালাই । কেউ কেউ বলছেন, আন্নামালাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা । কারন তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে প্রায় শুণ্য থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জায়গায় নিয়ে আসার মূল কারিগরি হলেন আন্নামালাই । অবশ্য কেউ কেউ আশা করছেন যে ২০৩১ বা তার আগে পরবর্তী নির্বাচনে আন্নামালাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসবেন । তবে দ্বিতীয়টাই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল । কারন তামিলনাড়ুতে বিজেপির সম্পদ কে আন্নামালাই । তিনি রাজ্য বিজেপির একমাত্র মুখ । কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও নেই । তাই তার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের পিছনে তাকে নিয়ে মোদী-শাহের দীর্ঘ মেয়াদি রননীতি কাজ করছে এটা স্পষ্ট ।
২০১৯ সালের সংসদ নির্বাচনে, তামিলনাড়ুতে বিজেপির ভোটের ভাগ ছিল মাত্র ৩.৬৪%। তরুণ আইপিএস অফিসার কে. আন্নামালাই, ২০১৯ সালের মে মাসে চাকরি ছেড়ে দেন এবং ২০২০ সালের আগস্ট মাসে বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর থেকে, তিনি বিশাল পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। কেবল মাত্র তার প্রচেষ্টার কারণে, বিজেপি তামিলনাড়ুতে একটি সুপরিচিত দল হয়ে ওঠে এবং ১১.২৪% ভোট পেতে সক্ষম হয়। কিন্তু ভোটের হারে ব্যাপক উন্নয়ন সত্ত্বেও, বিজেপি একটিও আসন জিততে পারেনি। কারণ ছিল এআইএডিএমকে । এক সময় এনডিএ জোটের সদস্য । ২০১৯ সালে, কে. আন্নামালাইয়ের পরামর্শে, বিজেপি জোট ছাড়াই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন এআইএডিএমকে ২০.২৪% ভোট পেয়েছিল।
তামিলনাড়ুর তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আন্নামালাইয়ের একা লড়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তা ঠিক নয় । বরঞ্চ সেই সময় এটা খুবই প্রয়োজন ছিল। হিন্দুত্ববাদের জোড়ার তোলেন তিনি । এছাড়াও, বিজেপি তামিলনাড়ুতে একটি কট্টর হিন্দু মুখ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল । কিন্তু, তাহলে কেন আন্নামালাই দলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ?
কারণ বিজেপি তিনটি জিনিস অর্জন করতে চায় । প্রথমতঃ,ফের এআইএডিএমকে-এর সাথে জোট । রাজনৈতিক মহলের খবর যে এআইএডিএমকে জোটের জন্য একটি শর্ত রেখেছে। তারা তাদের জোটের মুখ হিসেবে একজন কট্টরপন্থী হিন্দুকে চায় না, কারণ এটি তাদের ভোটার ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এটা যুক্তিসঙ্গতও । কারন এআইএডিএমকে ভোটাররা কট্টরপন্থী হিন্দু নয়। দ্বিতীয়তঃ, বিজেপি দক্ষিণে আন্নামালাইকে একজন বড় মুখ বানাতে চায় । দক্ষিণের রাজনীতিতে আবেগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ প্রায়শই আবেগের বশবর্তী হয়ে তাদের প্রিয় নেতাদের ভোট দেয়।
তৃতীয়তঃ,আন্নামালাইয়ের পদত্যাগ কোনও পদাবনতি নয় বরং একটি চূড়ান্ত ত্যাগ। মনে রাখবেন কীভাবে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের ত্যাগ তাকে একজন বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হতে সাহায্য করেছিল । আন্নামালাইকে তামিলনাড়ুর ফড়নবিশ করতে চাইছেন মোদী-শাহ জুটি ।
ইতিমধ্যে কট্টর বামপন্থী বিজয়ের প্রবেশ ঘটেছে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে । বিজয়ের প্রবেশের সাথে সাথে বিজেপির পুরো কৌশল বদলে গেছে। তার মতাদর্শ উগ্র, এবং তিনি সম্ভবত এমন একটি দলের সাথে জোট গঠন করতে পারেন যারা বিশ্বাস করে যে হিন্দু ধর্ম নির্মূল করা উচিত। তামিলনাড়ুতে হিন্দু ভোটের উপর নির্ভরশীল বিজেপির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে । বিজেপি এবং এআইএডিএমকে উভয়ই বিজয়কে তাদের ভোট ব্যাংক দখল করতে বাধা দিতে হবে । উলটে বিজয় যাতে এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকের ভোট কাটার কাজ করে সেটাই চাইবে তারা । তাই বিজয়ের হুমকি মোকাবেলা এবং ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভের জন্য এই জোট অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সুতরাং আন্নামালাইকে মোদী-শাহ জুটি শহীদ করেননি, বরঞ্চ আরও ভালো এবং শক্তিশালী হয়ে তিনি ফিরে আসবেন । আর সেই সময় পর্যন্ত আন্নামালাই ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে ।।