প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২০ ফেব্রুয়ারী : ফের প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার হল পূর্ব বর্ধমানে । এবারে মেমারি থানার দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়ল গ্রামের একটি পুকুরের পাঁক তোলার সময় জেসিবি মেশিনের ব্যাকহো লোডারে( খননকারী) উঠে এল হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টি পাথরের একটি বিষ্ণুমূর্তি । বৃহস্পতিবার মুর্তিটি মেশিনে উঠে আসার পর খবর পেয়ে আজ শুক্রবার সকালে মেমারি থানার পুলিশ মুর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় । পরে বিকেলের দিকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার কর্মীদের হাতে মূর্তিটি তুলে দেওয়া হয় ৷ এদিকে একটা প্রত্যন্ত গ্রামে একটি সুপ্রাচীন মুর্তি উদ্ধারের পর তোলপাড় পড়ে গেছে জেলা জুড়ে ।
জানা গেছে,মেমারি থানার বড়ল গ্রামে “ভেবার পাড়” নামে একটি পুকুর রয়েছে৷ ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরটি দীর্ঘ দিন ধরেই মজে গিয়েছিল । সম্প্রতি পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন পুকুর মালিক । কয়েকদিন ধরেই জেসিবি মেশিন দিয়ে পুকুরের মাটি ও পাঁক তোলার কাজ চলছিল । বৃহস্পতিবার পুকুরটি থেকে পাঁক কেটে তোলার সময় খননকারী যন্ত্রাংশের পাঁকের মধ্যে কালো ব্যাসল্ট পাথরের একটি প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি দেখতে পায় লোকজন । এদিকে প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারের খবর কানাকানি হতেই পুকুর পাড়ে প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে যায় । মূর্তিটি গ্রামের মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেন গ্রামবাসীরা ৷ কিন্তু খবর পেয়ে আজ সকালে পুলিশ গ্রাম থেকে মুৃর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় । পরে মেমারি থানা থেকে খবর পেয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার পক্ষে শ্যামসুন্দর বেরা এদিন বিকালে মূর্তিটি পুলিশের কাছ থেকে মুর্তিটি সংগ্রহ করে সংগ্রহশালায় নিয়ে যান ।
শ্যামসুন্দর বেরা বলেন,’বিষ্ণু মূর্তিটি কালো ব্যাসল্ট পাথর দিয়ে নির্মিত। মূর্তিটি উচ্চতায় ৩১ এবং প্রস্থে ১৫ ইঞ্চি। প্রস্ফুটিত পদ্মের ওপর সমপদ স্থানক ভঙ্গিতে দাঁড়ানো। ওপরের ডান হাতে আছে গদা এবং বাম হাতে আছে চক্র। মূর্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যা অনুসারে এই দুই চিহ্ন নির্দেশ করে যে মূর্তিটি বিষ্ণুর ত্রি-বিক্রম শৈলীর। মূর্তির দুই দিকে আছেন বিষ্ণুর দুই স্ত্রী, ডানদিকে লক্ষ্মী এবং বাম দিকে সরস্বতী। এছাড়া দুদিকে আছে আয়ুধপুরুষ, বাম দিকে চক্রপুরুষ ও ডানদিকে শঙ্খপুরুষ। পাদানি অংশে দুদিকেই আছেন বিষ্ণুর বাহন গরুড়। মূর্তির স্টেলার শীর্ষদেশে আছে কীর্তিমূখ ও দুপাশে আছে উড়ন্ত বিদ্যাধর।’ মূর্তিটি একাদশ শতকের সেন আমলের মূর্তি বলেই মনে করা হচ্ছে বলে জানান তিনি । তবে দুর্ভাগ্যক্রমে মূর্তির নিচের দুটি হাত ভাঙা এবং মুখের অংশও ক্ষতিগ্রস্থ রয়েছে । উল্লেখ্য,পূর্ব বর্ধমান জেলায় সুপ্রাচীন মুর্তি উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয় । মাস খানেক আগে রায়নার পলাসন গ্রামের একটি পুকুর সংস্কার সময়ে একই রকম প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়েছিল । যেটিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা সংরক্ষিত আছে ।।

