এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৭ এপ্রিল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘন্টার নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইরান যুদ্ধ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে৷ একদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইরানের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে ধ্বংস করেছে,যেগুলি দিয়ে মূলত অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ হত৷ এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া অবিস্ফোরিত মার্কিন’টোমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ৷ ফলে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি । যদিও ইরান হুমকি দিয়েছে যে যদি ইরানের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানা হয়, তবে তারা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত ফাইবার-অপটিক কেবল বিচ্ছিন্ন করে দেবে৷ উল্লেখ্য, ওই কেবল দিয়েই বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ হয় ।
তানসিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে,আজ সকালে তেহরানের মধ্যাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টোমাহক’ (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যাচ্ছে, যা তেহরানের কেন্দ্রস্থল ও এর উপকণ্ঠের সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকা লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায়—বিশেষ করে তেহরানের ‘মৌলভী’ এলাকার ‘সৈয়দ ইসমাইল বাজারে’—আঘাত হানে; কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক অংশটি বিস্ফোরিত হতে ব্যর্থ হয়। ফলে, কেবল ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতের ফলেই সেখানে মাত্র দুটি দোকানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,এই ঘটনার পরপরই, ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড নিষ্ক্রিয় করতে এবং দুর্ঘটনাস্থলটি নিরাপদ করতে সেখানে ‘অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল টিম’ (বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল) পাঠানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, তারা ইরানের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, এই অবকাঠামোগুলোই ছিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের প্রধান পথ—যা তারা এই অঞ্চলে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” চালানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল “সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের সক্ষমতা”কে অকার্যকর করে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর কার্যপদ্ধতির ওপর একটি বড় আঘাত হানা। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হামলাগুলো একটি সুনির্দিষ্ট ও পদ্ধতিগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে এবং এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল কেবল সেই “নিবর্তনমূলক শাসকগোষ্ঠী”-র সংশ্লিষ্ট উপাদানসমূহ, ইরানের সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরা নয়।
এদিকে ইরানি বিপ্লবী গার্ড এখন Trump_Epstein সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে বলেছে: “যদি ইরানের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত হানা হয়, তবে আমরা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত ফাইবার-অপটিক কেবলে আঘাত হানব।” এই ফাইবার-অপটিক ক্যাবলটিই হলো সেই প্রধান মাধ্যম, যা বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করে । এটি বর্তমান পরিস্থিতির এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ উত্তরণ; যদি ওই কেবলে আঘাত হানা হয়, তবে যে বিপর্যয়কর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে—তা এড়াতে বিভিন্ন রাষ্ট্র সম্ভবত ট্রাম্পকে সংযত করার লক্ষ্যে হস্তক্ষেপ করবে বলে মনে করা হচ্ছে ।।
