ইন্ডিয়া টুডে-এর কনক্লেভ প্যানেলে আমন্ত্রিত প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লরা লুমার (Laura Loomer)কে ইসলাম বিদ্বেষী তকমা দিয়েছিলেন ভারতের বামপন্থী সাংবাদিক ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের স্বামী রাজদীপ সরদেশাই (rajdeep sardesai)৷ এমনকি তিনি ভারতীয় সংস্কৃতির “অতিথি দেব ভবঃ” জ্ঞানও শুনিয়েছিলে । যার প্রতিক্রিয়ায় সরদেশাইয়ের ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ভন্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছেন ওই মার্কিন মহিলা সাংবাদিক । যাতে বেজায় চটেছেন আর এক বামপন্থী নিউজ পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক কট্টর ইসলামি সাংবাদিক আরফা কাহানুম শেরওয়ানি (Arfa Kahanum Sherwani) ।
ইন্ডিয়া টুডের ওই বিতর্কের সময় রাজদীপ সরদেশাইয়ের বক্তব্যের ভিডিওটি এক্স-এ শেয়ার করেছেন লরা লুমার। যেখানে রাজদীপকে দেখা গেছে,”তোমার মন্তব্য ইসলামবিদ্বেষী” । পাশাপাশি কিছু উগ্র ইসলামি বক্তার বক্তব্যে পুরনো রেকর্ডও তিনি শেয়ার করেছেন । লরা লুমার লিখেছেন, “সারদেশাই রাজদীপ আজ ইন্ডিয়া টুডের কনক্লেভে আমার প্যানেল চলাকালীন তুমি আমাকে আক্রমণ করেছ, এবং ইসলাম সম্পর্কে সত্য কথা বলার জন্য তুমি আমাকে “বর্ণবাদ” এবং “ইসলামফোবিয়া” বলে অভিযুক্ত করেছ। ১০ দিন আগে, যখন ইসলামী জিহাদি এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপত্র মেহেদী হাসান(mehdir hasan) কে তোমার অনুষ্ঠানে আসতে দিতে তোমার কোন সমস্যা হয়নি, তখন তুমি কীভাবে আমাকে বর্ণবাদী বলে অভিযুক্ত করতে পারো, যদিও সে অমুসলিমদের “পশু এবং গবাদি পশু” বলে উল্লেখ করেছে?”
মেহেদী হাসানের ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “মেহেদী হাসানের অমুসলিমদের পশু এবং গবাদি পশু বলার ভিডিওটি এখানে। তুমি কি মনে করো হিন্দুরা মেহেদীর মতো কাফির ? সারদেশাই রাজদীপ, আমার কাছে মনে হচ্ছে তুমি একজন ইসলামের প্রতি সহানুভূতিশীল। আরও খারাপ, মেহেদী আগে বলেছিল যে সে আমেরিকায় আরও বিমান বিধ্বস্ত দেখতে চায়। তুমি কি তাকে অতর্কিত আক্রমণ করে আমেরিকায় বিমানের মাধ্যমে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের ডাক দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছিলে? নাকি তুমি কি কেবল মহিলাদের বিরুদ্ধেই আওয়াজ তোলো, যেভাবে মুসলিম পুরুষরা মহিলাদের সাথে কথা বলে? জিহাদকে সমর্থন করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক নিন্দিত এই জিহাদিকে কেন আপনি আপনার শোতে আসতে দিলেন? দ্বিমুখী নীতি! ইসলামের নামে যারা আপনাকে হত্যা করতে চায় তাদের পক্ষ নেওয়া বন্ধ করার সময় এসেছে। এছাড়াও, আমি এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নেব না যে জোহরান কে মামদানি, উগান্ডার জিহাদিকে তার শোতে আসার জন্য অনুরোধ করছে। মামদানি একজন কমিউনিস্ট।আপনি কি কমিউনিস্ট?”
অন্য একটি পোস্টে লরা লুমার লিখেছেন,”ফোবিয়া হল একটি অযৌক্তিক ভয়। ইসলামকে ভয় পাওয়া অযৌক্তিক নয়, কারণ ইসলাম এমন একটি আদর্শ যা স্পষ্টভাবে সমস্ত অমুসলিমদের হত্যার আহ্বান জানায়। আপনি কীভাবে পিছনে বসে হিন্দুদের উপর ইসলামিক গণহত্যা এবং ধর্ষণ দেখতে পারেন এবং আপনার দেশে পাকিস্তানি হানাদারদের রক্ষা করতে পারেন যারা ভারতকে একটি মুসলিম দেশ করতে চান? আপনার কি জাতীয় গর্বের কোনও বোধ নেই এবং আপনার দেশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু হিসেবে সংরক্ষণ করার আকাঙ্ক্ষা নেই? আপনার কি বেঁচে থাকার শক্তিশালী প্রবৃত্তি নেই?”
“ভারতকে মুসলিম দেশ করা” লরা লুমারের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন দ্য ওয়্যারের ইসলামপন্থী সাংবাদিক আরফা কাহানুম শেরওয়ানি । তার দাবি নাকি “কেউই ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্র করবে না” এবং “ভারত কখনোই হিন্দু জাতি ছিল না” । লরা লুমারকে ট্যাগ করে আরফা লিখেছেন,”কেউই ভারতকে মুসলিম দেশে পরিণত করতে চায় না। আর ভারত কখনোই হিন্দু জাতি ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না।আমরা একটি ধর্মনিরপেক্ষ, উদার, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি।এটা লজ্জাজনক যে ইন্ডিয়া টুডে এমন এক জঘন্য ইসলামবিদ্বেষীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং নিজের উপর লজ্জা বয়ে এনেছে।”
তবে আরফার এই মন্তব্যের জবাব লরা দেননি । জবাব দিয়েছেন মিস্টার সিনহা নামে একজন ভারতীয় । তিনি লিখেছেন,”আপনার পুরো আদর্শিক আলোচনা গাজওয়া-ই-হিন্দের ধারণাকে ঘিরে আবর্তিত। ভারত সর্বদাই একটি হিন্দু সভ্যতা। আর্যাবর্ত থেকে ভারত এবং পরবর্তীতে হিন্দুস্তান পর্যন্ত, এই ভূখণ্ডের প্রতিটি নাম হিন্দু ঐতিহ্যের মূলে নিহিত একটি সভ্যতার গল্প বহন করে। “আপনি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন”? অবিভক্ত ভারতের ৯৫% এরও বেশি মুসলমান দেশভাগের সময় একটি পৃথক ইসলামী জাতির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আজ যারা এখানে রয়েছেন তাদের অনেকেই ভারতের প্রতি আদর্শিক প্রতিশ্রুতির কারণে তা করেননি, বরং কেবল কারণ অভিবাসন সম্ভব ছিল না। ইসলামফোবিয়া আপনার পাপকে সাদা করার এবং ন্যায্যতা প্রমাণ করার একটি হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।”
উল্লেখ্য,একটি ইসলামপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে বামপন্থী শাসিত কেরালায় রীতিমতো অস্ত্র প্রশিক্ষণের ক্যাম্প পর্যন্ত করা হয়েছিল।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওই গোষ্ঠীটি নিষিদ্ধ করার পর দেশ জুড়ে এন আই এ অভিযান চালানোর সময় গাজওয়াতুল হিন্দ (বা গাজওয়া-ই-হিন্দ) সম্পর্কীয় পোস্টারসহ বিহারের এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মী মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করে । সেই পোস্টার অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ইসলামি রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা বলা ছিল বলে দাবি করা হয়৷ যদিও তখন বিষয়টি নিয়ে আরফা খানুম বা তার পোর্টালে মত ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষদের তরফে কোনো মন্তব্য সামনে আসেনি।।

