এইদিন স্পোর্টস নিউজ,০১ ফেব্রুয়ারী : টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করবে বলে অনেক লাফালাফি করলেও আইসিসি-এর দ্বারা বিপুল আর্থিক ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য বোঝার কথা মাথায় রেখে অবশেষে পিছু হঠল পাকিস্তান । আজ রবিবার পাকিস্তানের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে – আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলকে পাঠাবে । তবে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করবে তারা । পাকিস্তান সরকার এক্স-এ তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। আইসিসির সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত- পাকিস্তান ম্যাচটি হওয়ার কথা ।
বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের একটা বৃহৎ অংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখে এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই জটিলতার সৃষ্টি করে সেদেশের সরকার । বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস সরকার তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারতে তাদের দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় । পরিবর্তে তারা তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করার আবেদন জানায় আইসিসি-এর কাছে । কিন্তু আইসিসি তাদের এই অনাহ্য দাবি মানতে অস্বীকার করে এবং বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে৷
এদিকে বাংলাদেশকে সমর্থনের নামে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করবে বলে হম্বিতম্বি শুরু করে পাকিস্তান । বাংলাদেশ দলকে নিয়ে আইসিসিতে সিদ্ধান্ত আসার আগেই পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খবর আসতে শুরু করে। কেউ বলেছে, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ পুরোপুরি বয়কট করবে। কেউ বলেছে, শুধু ভারতের ম্যাচটা বয়কট করবে। আবার পাকিস্তানের অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার পাকিস্তানের এমন চিন্তা ভাবনারই সমালোচনা করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারই সিদ্ধান্তটা নেবে বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, যিনি আবার পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সিদ্ধান্তটা প্রাথমিকভাবে গত শুক্রবার কিংবা আগামীকাল সোমবার আসার কথা থাকলেও আজই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।
তবে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক পোস্টে শুধু গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি পাকিস্তান বয়কট করবে বলে জানানো হয়েছে। দুই দলই পরের রাউন্ডে গেলে এবং সেখানে আবার মুখোমুখি হলে সে ক্ষেত্রে কী করবে, তা আপাতত জানানো হয়নি পাকিস্তান সরকারের পোস্টে। সর্বশেষ বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপগুলোর বেশ কয়েকটিতেই পাকিস্তান ও ভারত দলকে একাধিকবার একে অন্যের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ইস্যুকে জড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তটা ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট কূটনীতিতে নতুন চাল বলে মনে করা হচ্ছে । উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়নি সেই ২০১৩ সাল থেকেই। তবে এতদিন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুই দলকে নিয়মিত মুখোমুখি হতে দেখা গেছে ।।
আরও পড়ুন :

