এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৭ জুন : খিদিরপুরের অরফ্যানগঞ্জ বাজারে রবিবার মধ্যরাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৩০০টি দোকান ভস্নীভূত হয়ে গেছে । আজ মঙ্গলবারও কিছু কিছু দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় । রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেছিলেন । একটা মঞ্চে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণও দেন । সেই সময় স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে পরিকল্পিতভাবে তাদের দোকানগুলিতে আগুন লাগানো হয়েছে ৷ তিনি অভিযোগ করেন,’আজকে ভারতবর্ষ ৭৮ বছর স্বাধীন হয়েছে । ৭৪ বছর জেলাশাসক আমাদের চালিয়েছেন । কিন্তু কোনদিন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি । আগে চার বছর ক্ষমতায় এসে আমাদের বাজারকে ভস্মীভূত করে দিল । পুরো পরিকল্পনামাফিক কাজ হয়েছে । কারণ দু’ঘণ্টা দমকল লেট, দু’ঘণ্টা প্রশাসন লেট । দমকল এলে জল আছে তো তেল নেই । কেন ? এখানে একটা পেরেক পুঁতলে ১০ মিনিটে পুলিশ পৌঁছে যায়, পুলিশকে ১০০০০ টাকা দিতে হয়,তা নাহলে আমাদের কাজ হবে না ।’
এরপর শুভেন্দু অধিকারী এই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা আপনারা জানেন তো । রাত্রি একটা নাগাদ আগুন লাগলো । সাড়ে চারটার সময় দমকলের দেখা মিলল না। দমকল এলে বলছে জল নেই ৷ মমতা ব্যানার্জি বলছে দমকল ঢুকতে পারেনি । এই রাস্তা দিয়ে তো বড় বাস ঢোকে । দমকল ঢুকতে পারেনা ? বড় মিথ্যাবাদী । তারপরে যদি জল নেই তো বলে তেল নেই । এখনো ধোঁয়া উঠছে । এটা সরকার চলছে ? এর থেকে তো বাংলাদেশের ইউনূসের সরকার ভালো চলছে ।’ তাঁর কথায়, সব ক্যামাক স্ট্রিটের সেটেল হয়ে গেছে । রুপিয়া ফেলো তামাশা দেখো । মুখ্যমন্ত্রী কাল এসে প্রথম বললেন আপনাদের জন্য তো জায়গা ঠিক করা হয়েছে চলে যান । আরে,গোটা এলাকা বেচে দিয়েছেন ।’
তিনি বলেন,আরে,গোটা এলাকা বেচে দিয়েছেন । আলিপুর সেন্ট্রাল জেল বেচে দিয়েছে । চিড়িয়াখানা বেচে দিয়েছে । বাকি আছে আপনাদের এই এলাকা। ইতিমধ্যে আগুন লেগে গেছে । টিএমসি মানে এখন তৃণমূল কংগ্রেস নয়, মা মাটি মানুষ নয়, টাকা মারা কোম্পানি । তাই মুখ্যমন্ত্রী বলে গেছেন জায়গা ঠিক হয়ে গেছে চলে যাও, তোমায় ১ লাখ দিলাম বাংলা ছেড়ে চলে যাও । ২৬ হাজার চাকরি গেছে, ডাক্তার বোন মারা গেছে, ৩২ হাজার প্রাইমারি চাকরি যাওয়ার পথে । এই র্যাকেট চলছে গোটা বাংলায় । কলকাতাতে ভালো ভালো জায়গায় আগুন লাগিয়ে দাও তারপরে বেচে দাও বেসরকারি কোম্পানিকে । টালিগঞ্জ, ঢাকুরিয়া প্রভৃতি সব ভালো ভালো জায়গা গুলো বেচে দিয়েছে । কি হবে ? শপিং মল হবে । বিউটি পার্লার হবে । আর গরিবদেরকে তোলা হবে । আপনাদের মাথার উপরে বড়লোকরা থাকবে আর গঙ্গা দর্শন করবে ।’ তিনি বলেন,’মমতা ব্যানার্জি আগে থেকেই টাকা নিয়ে রেখেছে । এদেরকে তুলে হয় কলিম গ্রুপ অথবা রিলায়েন্স কে বিক্রি করে দেবে৷ চিড়িয়াখানা আলিপুর সেন্ট্রাল জেল বিক্রি করেছে, বড়লোকের বিল্ডিং হবে ওরা উপর থেকে গঙ্গা দেখবে আর গরিব চাপা পড়বে । এটা আমার মা মাটি মানুষ নেই, টাকা মারা কোম্পানি হয়ে গেছে ।’
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’আপনারা অবস্থান চালাবেন । ঝান্ডার প্রয়োজন নেই । পার্টির প্রয়োজন নেই৷ আমরা সবাই একসাথে আপনাদের ধর্না মঞ্চে সামিল হওয়ার জন্য তৈরি আছি৷ আগুন নেভাতে পারেননি আর পুলিশ ও দমকলকে বলছেন ঘর গুলো ভেঙে দাও । ভাঙতে দেবেন ? লড়াই হবে ?’ তিনি বলেন,’আমি বিধানসভায় আপনাদের জন্য আওয়াজ তুলব । এই ১৩০০ লোকের জন্য বিরোধী দলনেতা সহ আমরা প্রত্যেকে আপনাদের পাশে থাকবো । এদের সঙ্গে কোন মানুষ নেই । এদের সঙ্গে শুধু পুলিশ আছে । এদের পুলিশ ছাড়া অস্তিত্ব নেই । যে পুলিশ ডাক্তার বোনকে বাঁচাতে পারে না, যে পুলিশ গরিবের কাছে দাঁড়াতে পারে না, সেই পুলিশ আসবে । ভয় দেখাবে । চোখ দেখাবে৷ কিন্তু আপনারা ভয় পাবেন না । এ লড়াই গরিবের লড়াই, অধিকার রক্ষার লড়াই, নিজের অধিকার ছিনে নেওয়ার লড়াই, এ জমি বংশানুক্রমিক ভাবে আপনাদের, এই লড়াইয়ে বিরোধী দলনেতা সর্বতোভাবে আপনাদের পাশে আছে । যা যা করার করব । এখনই যদি সেল্টার করে আপনাদের কোথাও রাখতে হয় তাহলে খাবার, পোশাক, ত্রিপল, প্রাথমিক ত্রাণ সামগ্রী, যা লাগবে আপনাদের সব আমরা দেবো । আইনি সহায়তা দেবো । বড় বড় আইনজীবী দেবো ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’আমি আপনাদের বলে যাচ্ছি, জমি রক্ষা আন্দোলনে আমি ডক্টরেট । আপনি সিঙ্গুরে বসে ছিলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আপনাকে চুলের মুঠি ধরে সেকেন্ড ব্রিজে নামিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল । আর আমি নন্দীগ্রামে লড়েছিলাম, সিপিএমকে হার স্বীকার করতে হয়েছে ।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’মুখ্যমন্ত্রীর সবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি । মুখ্যমন্ত্রীকে তো বলেছিল বাংলার মেয়ে। কেন মুখ্যমন্ত্রীকে কালকে ১,০০০ পুলিশ নিয়ে এসে দড়ি বেড়া দিয়ে ঘিরে বক্তব্য রাখতে হয়েছে এবং আমরানের ধমকাতে হয়েছে ? কেন ধমকাবেন ? মুখ্যমন্ত্রী তো সবার । বিরোধী দলনেতাকে তো বেড়া দিতে হয়নি । এখানে হিন্দু আছে মুসলমানও আছে। বিজেপি আছে, সিপিএম আছে, টিএমসিও আছে । আমাকে তো কেউ বলেনি যে আপনি রাজনীতি করতে এসেছেন । আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আর মানুষের আস্থা উড়ে গেছে । কারণ তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন নি । কারণ তিনি ববি হাকিম, কলিম গ্রুপ, রিলায়েন্স,সুজিত বসুর মুখ্যমন্ত্রী । তুমি গরীব ব্যবসায়ীদের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি ।’
কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা বলেন,’আমি মনোজ বর্মাকে এখন নয়,যখন অবিভক্ত মেদিনীপুরের ক্যাডার ছিল তখন থেকে আমি ওকে চিনি । একদম হাত লাগাবেন না৷ আপনাদের দোকানে যদি মনোজ বর্মার আর তার লোক হাত লাগায় তাহলে আমি আপনাদের পাশে আছি৷ এই লড়াই ১৩০০ লোকের লড়াই নয়, আমার লড়াই হবে । আমাকে সব লিখে দিয়েছেন । বিধানসভায় এই বিষয়ে আমি জোরদার বিরোধ করবো ।’
তিনি বলেন,’সবার ট্রেড লাইসেন্স আছে, বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, সমস্ত ডকুমেন্ট আছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী কাল বলে গেলেন সব বেআইনি । ১০০ সালের প্রাচীন দোকান রয়েছে । পুড়ে গেলেও পেয়ে যাবেন সব । আপনাদের সাথে ফুল লিগ্যাল টিম দেবো । আপনারা স্থানীয়ভাবে লড়াই করুন । লিগ্যাল টিম আমরা দেব । যত বড় বড় আইনজীবি লাগবে আমরা দেব । আমরা এখানে আপনাদেরকে তুলতে দেব না । বেছে বেছে পোড়াইনি, টার্গেট ছিল পুড়িয়ে দিয়েছে । হিন্দু আছে, মুসলিম আছে, শিখ আছে, জৈন আছে, সবাই আছে সব ভারতীয় । যখন এই এলাকার দক্ষিণ কলকাতার মধ্যে ছিল তখন মমতা ব্যানার্জিকে এরাই জেতাতো । উনি ৭ বার সাংসদ হয়েছেন । সিপিএম ২০০৭ সালে এদের তোলার চেষ্টা করেছিল । কিন্তু রাকেশ সিং আটকে দিয়েছিল । সেদিন লড়াইয়ে এই মমতা ব্যানার্জি এসেছিলেন । আর আজকে পাল্টে গেলেন ? বদল হয়ে গেছে আপনার ।’।

