এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাঁকুড়া,১১ এপ্রিল : বাঁকুড়া শহরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের উপর হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বাহিনীর বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অরিন্দম মণ্ডল নামে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতা । তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । অভিযোগ উঠেছে যে তৃণমূলের স্থানীয় ছাত্র নেতা সূরজ বক্সের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল বাঁশ,লাঠি হকিস্টিক এবং এমনকি হেলমেট নিয়ে এই হামলা চালায় । চাকুরীজীবিদের ওই সংগঠনটি জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি নিয়ে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করবেন । এই ঘটনায় বাঁকুড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠছে অভিযোগের আঙুল । অভিযোগ যে ঘটনার সময় একটি পুলিশের গাড়ি থাকলেও নিরাপত্তার জন্য আকুতি জানানো সত্ত্বেও পুলিশ পালিয়ে যায় ! এনিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
বাঁকুড়ার বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা রক্তাক্ত অরিন্দম মণ্ডলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন,’তৃণমূলের জিহাদি দুষ্কৃতীরা দেখুন কিভাবে হামলা চালালো সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যকে৷ এই সময় সকল হিন্দু দের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি এবং পদ্মফুলে ভোট দিয়ে সন্ত্রাস মুক্ত সরকার গঠন করুন।’ যদিও তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় জানিয়েছেন,ঘটনার কথা তার জানা নেই । আইন আইনের পথে চলবে ।
জানা গেছে,শুক্রবার বিকেলে বাঁকুড়া শহরের এবিটিএ হলে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সভা ছিল । উপস্থিত ছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম কনভেনার ভাস্কর ঘোষ সহ বাঁকুড়া জেলার নেতৃত্ব । দুর্গাপুর থেকেও সংগঠনের অনেক সদস্য ওই সভায় যোগ দেন । সন্ধ্যা নাগাদ সভা শেষ হয় ৷ অনেকেই বাড়ি ফিরে যান ৷ আর মঞ্চের সদস্যরা যখন সংখ্যায় কমে যায় সেই সময় ভাস্কর ঘোষের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ।
অভিযোগ, বাঁকুড়া থানার অন্তর্গত স্কুলডাঙ্গায় একটি মাজারের কাছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ওই ছোট দলটি যখন দাঁড়িয়ে ছিল,সেই সময় তৃণমূলের ছাত্রনেতা সূরজ বক্সের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল এসে অতর্কিতে বাঁশ,লাঠি হকিস্টিক এবং এমনকি হেলমেট নিয়ে হামলা চালায় । অরিন্দমকে বেধড়ক মারধর করে । আহত হয় আরো চার-পাঁচজন । হামলা মূলত মাথা লক্ষ্য করে চালানো হয় বলে অভিযোগ ।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্য নির্ঝর কুন্ডুর অভিযোগ, ‘সেই সময় বাঁকুড়া থানার একটি গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল ৷ পুলিশকে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হয় । কিন্তু পুলিশের গাড়িটি সব কিছু জেনে-বুঝে সাহায্য না করেই চলে যায়৷’ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতন কনভেনার ভাস্কর ঘোষকে হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ,রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর পাড়াতে সভা আছে। চেষ্টা করেও শাসকদল বন্ধ করতে পারিনি। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিক্রমে সেই সভা হবে । সেই সভা বানচাল করতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এই হামলা চালানো হয় ।।
Author : Eidin Desk.

