এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২২ মার্চ : চলতি বছরটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো যায়নি এবং তাদের নাম একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে। বিসিসিআই ও আইসিসির সঙ্গে বিরোধের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগে থেকেই আলোচনায় ছিল, আর এখন বোর্ড নির্বাচন নিয়ে নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে।
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরপরই, বাংলাদেশ সরকার বিসিবি নির্বাচন নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে, যা সভাপতি আমিনুল ইসলামের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এরই মধ্যে, বিসিবি সরকারকে ইঙ্গিত দিয়েছে যে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে বিষয়টি আইসিসিতে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রাক্তন এসিসি সিইও সৈয়দ আশরাফুল হক একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে তিনি বলেছেন যে,এই বিষয়ে বিসিবি যদি আইসিসিকে জড়ানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের আত্মরক্ষার জন্য একটি ‘হুমকি’ হবে । বাস্তবতা হলো, বিসিবি সরাসরি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অধীনে আসে।
আশরাফুলের মতে, বিসিবি যদি ঠিকমতো কাজ না করে অথবা নির্বাচনে অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে বোর্ডটি ভেঙে দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এনএসসির রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই বিধানটি ইতিমধ্যেই আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আশরাফুল হক বলেছেন যে, এই বিষয়ে আইসিসি খুব বেশি কিছু করতে পারে না, কারণ আইসিসি শুধু দিকনির্দেশনা দেয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। বিসিবি যদি তার সংবিধান অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে আইসিসি হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি পাকিস্তানের বোর্ড সভাপতি বহুবার পরিবর্তনের উদাহরণ দেন, কিন্তু আইসিসি হস্তক্ষেপ করেনি। তাই আইসিসিকে ‘মালিক’ হিসেবে নয়, বরং ‘অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকার কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না। প্রথমে তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হবে এবং আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন সবার নজর তদন্তে কী বেরিয়ে আসে তার ওপর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিসিবির বিরুদ্ধে বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসির মধ্যকার দ্বন্দ্ব স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল। যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপরও বাংলাদেশ বিসিসিআই এবং আইসিসির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তোলে।।
