শুক্রবার ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে নামাজ চলার সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ৷ বিস্ফোরণে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে । আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৭০ জন । এই হামলার দায় স্বীকার এখনো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী করেনি৷ এদিকে পাকিস্তান সরকার নিজেদের ব্যার্থতা ঢাকতে একবার আফগানিস্তানের তালিবানকে,আর একবার ভারতের দিতে অভিযোগের আঙুল তুলছে । যদিও তালিবান ও ভারত পাকিস্তানের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে । তবে মনে করা হচ্ছে যে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানেরই কোনো সুন্নি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত আছে । এর পিছনে কারন হল পাকিস্তানকে ১০০ শতাংশ সুন্নি অধ্যুষিত ইসলামি রাষ্ট্র বানানো ৷
পাকিস্তানের সুন্নিদের সুদুরপ্রসারি ষড়যন্ত্র বুঝতে না পেরে একদিকে যেমন আহমদিয়া মুসলিমরা নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে,পাশাপাশি পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায় এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে । কিভাবে সুন্নিরা ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছিল নিচের খবরটি পড়লে বুঝতে পারবেন :
আসলে, ভারত বিভাগের পর, জিহাদ এবং ধর্মের নামে পাকিস্তানে হিন্দু এবং শিখদেরই প্রথম নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল।বলা হত যে হিন্দু এবং শিখরা “কাফের” । সুন্নি, শিয়া এবং আহমদিয়া মুসলিমরা একসাথে পাকিস্তান থেকে কাফেরদের নির্মূল করেছিল। যখন হিন্দু এবং শিখরা আর পাকিস্তানে লুপ্তপ্রায় হয়ে যায় তখন সুন্নিদের স্ট্রাটেজি বদলে যায় । শিয়া এবং সুন্নিরা মিলে আহমদিয়া মুসলিমদের কাফের বলতে শুরু করে। শিয়া এবং সুন্নিরা তখন আহমদিয়াদের হত্যা করতে শুরু করে। আহমদিয়াদের দশা হিন্দু এবং শিখদের চেয়েও খারাপ হয় ।
কারণ হিন্দুদের কাছে মরে যাওয়া এবং ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প উপায় ছিল না। কিন্তু আহমদিয়ারা নিজেরাই মুসলিম, তাই তাদের ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল না৷ বরঞ্চ তাদের “অপবিত্র” হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, এবং তাদের মরে যাওয়া বা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। অবশেষে পাকিস্তানের আহমদিয়ারা শেষ হয়ে যায় ।
এরপর ষড়যন্ত্রের অন্তিম পর্যায়ে সুন্নিদের নিশানায় আসে শিয়ারা । কাফের ঘোষণা করার মত দেশে আর কোনো সম্প্রদায় নেই । তাই এবার শিয়াদের পালা।পাকিস্তান থেকে শিয়াদের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার পরই সুন্নি মুসলমানরা সন্তুষ্ট হবে। প্রতিদিন, পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে, কাফের বা নকল মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শুক্রবার ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা হল সুন্নিদের সেই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অঙ্গ । ৬৯ জন শিয়া নিহত, ১৭০ জন আহত ।
সুন্নি ইসলামিক সন্ত্রাসীরা একটি শিয়া মসজিদে হামলা চালিয়ে “আল্লাহু আকবর” স্লোগান দেয়, যা একসময় সুন্নি, শিয়া এবং আহমদীরা একসাথে হিন্দু ও শিখদের হত্যা করার জন্য ব্যবহার করত। কিন্তু আজ ইসলামাবাদে যখন বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, তখন শিয়ারা “আল্লাহ”র কাছে প্রার্থনা করছিল। তারা একই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিল যাকে সুন্নিরাও উপাসনা করে ।
সম্ভবত পাকিস্তানের সুন্নিদের এই গভীর ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করেছে অনান্য দেশের শিয়ারা । যেকারণে আজ শনিবার জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার শিয়া সম্প্রদায়ের স্থানীয় বাসিন্দারা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিবাদে শ্রীনগর-বারামুল্লা জাতীয় মহাসড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । তারা “পাকিস্তান মুর্দাবাদ” ও “হিন্দুস্থান জিন্দাবাদ” শ্লোগান দেয় ।।

