এইদিন ওয়েবডেস্ক, ভাতার (পূর্ব বর্ধমান),০৫ এপ্রিল : গতবছর অক্টোবর মাসে দলের বিজয়া সম্মীলনীর অনুষ্ঠানের দিন ভাতার বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের জেরে। সেদিন থেকেই এযাবৎ ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী এবং ভাতার ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল। ভাতার অঞ্চলের কিছু দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অশোক হাজরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কখনও কখনও কিছু সমাজসেবামূলক কর্মসূচি নিয়েছেন । নিজে আলাদাভাবে ফ্লেক্স ব্যানার ছাপিয়ে এলাকায় টাঙিয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৫ মাস ধরে অশোক হাজরাকে বিধায়কের বা ব্লক সভাপতির সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায় নি। দলের ব্লক কার্যালয়ে তাঁকে যেতেও দেখা যায় নি। আর স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক মহলে এটাই চর্চা ছিল, ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর ‘আদায় কাঁচকলা’ সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু সেসব জল্পনার অবসান। শনিবারে ফের বিধায়ক মানগোবিন্দ এবং অশোক হাজরাকে একসাথে দেখা গেল দলীয় কর্মসূচিতে। এদিন বিকেলে ওষুধ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভাতার বাজারে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর নেতৃত্বে মিছিল হয়। এই মিছিলে বিধায়ক এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশের পাশেই হাঁটতে দেখা যায় অশোক হাজরাকে। যা দেখে দলীয় কর্মীরাই অনেকে অবাক। কর্মীদের অনেকের মধ্যে ফিসফিসানি শুরু হয়। কেউ বলেন ,” তাহলে এত ঝামেলার কি প্রয়োজন ছিল।” কেউ বলেন,” এটা জানতাম বিধায়কের সঙ্গে অশোক হাজরার আবার মিল হয়ে যাবে।”
এদিন ভাতার ব্লকের ১৪ টি অঞ্চল থেকেই দলীয় কর্মী সমর্থকরা কেন্দ্র বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়েছিলেন। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক ছিলেন। বিধায়কের পাশাপাশি ছিলেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ,সহ সভাপতি অশোক হাজরা, জেলা পরিষদের সদস্য সায়রাবানু, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপালী সাহা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সফিউল আলম, ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি অমিত হুই, যুব নেতা জুলফিকার আলী সহ অন্যান্যরা।
উপস্থিত কর্মীদের নজর ছিল পাঁচ মাস পর বিধায়ক ও অশোক হাজরা পাশাপাশি আসার পর কে কি মন্তব্য করেন। যদিও মানগোবিন্দ অধিকারী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় সরাসরি বলেই দেন,” যাঁরা বিশেষ করে মিডিয়া এতদিন বলছিল অশোকের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব রয়েছে তাঁরা এসব মিথ্যা অপপ্রচার করছিলেন। অশোকের সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা ছিল না,নেই।” পাশাপাশি বিধায়ক এলাকার সবাইকে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমী পালন করার জন্য আহ্বান জানান।
বাসুদেব যশ,অমিত হুই রা বলেন,” আমাদের সবার মাথার উপর রয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ভাতারে আমাদের একজনই নেতা ছিলেন,আছেন ও থাকবেন – তিনি মানগোবিন্দ অধিকারী।তাঁর নেতৃত্বেই আমরা সবাই লড়ব।”
বস্তুতপক্ষে কিছুদিন আগেই ভাতারের তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোলের জেরে অঞ্চল সভাপতির পদ হারিয়েছেন ভাতার অঞ্চলের সোমনাথ চক্রবর্তী এবং বড়বেলুন ১ অঞ্চলের রাজকৃষ্ণ বন্দোপাধ্যায়। আর ওই দুজনের সঙ্গে বিগত পাঁচ মাস ধরে অশোক হাজরার ঘনিষ্ঠতা দেখা গিয়েছিল। এদিন ভাতার বাজারে নাসিগ্রাম মোড়ে পথসভায় ছিলেন সদ্য প্রাক্তন অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সোমনাথ চক্রবর্তীও। তবে তিনি এসব নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিটি ব্লকেই এই ধরনের প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেছে। এদিন শনিবার ব্লক তৃণমূলের এই কর্মসূচির পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে খবর ছিল অশোক হাজরা তাঁর অনুগামীদের নিয়ে হয়তো আলাদাভাবে মিছিল করতে পারেন। তবে দেখা যায় সেসব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অশোক হাজরা ব্লক মিছিল শুরুর আগে কয়েকজন দলীয় কর্মী ও অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান ব্লক তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে। তারপর বিধায়কের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেন।।