এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১৩ জানুয়ারী : সম্প্রতি টিভি অভিনেতা দম্পতি জয় ভানুশালীর সাথে আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে মাহি ভিজের । তাদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে । তারপর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে, ৪৩ বছর বয়সী মাহি ভিজ সালমান খানের শৈশবের বন্ধু ও প্রোডাকশনের প্রধান ৬০ বছর বয়সী নাদিম কুরেশির প্রতি তার ভালোবাসার কথা ঘোষণা করেন। শুধু তাইই নয়, মাহি ভিজের মেয়ে তারা নাকি নাদিম কুরেশিকে “আব্বা” বলে ডাকতে শুরু করেছে ।বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । কেউ কেউ এটাকে “লাভ জিহাদ” বলে বর্ণনা করছেন । আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়েছেন অভিনেত্রী মাহি । তিনি একটি ভিডিও বার্তায় ওই সমস্ত নেটিজেনদের মুখে “থুতু দেওয়া”র কথা বলেছেন । সেই সাথে নাদিম কুরেশিকে তার মেয়ে “আব্বা” সম্বোধন করার বিষয়ে সাফাইয়ে বলেছেন, “জ্যাঠাকে কেউ কেউ বড় বাবা বলে ডাকে । তার মানেই কি তার সাথে বিবাহিত হতে হবে ?” তিনি এও জানান, জয় ভানুশালীর ইচ্ছাক্রমেই নাকি তারা তাদের মেয়েকে নাদিম কুরেশিকে “আব্বা” বলে ডাকতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন । অবশ্য নাদিম কুরেশিকে নিজের দীর্ঘদিনের “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” বলে অবিহিত করেছেন তিনি । যদিও অভিনেত্রীর এই যুক্তির পালটা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে কোন মা তার সন্তানকে একজন পর পুরুষকে আব্বা বলার অনুমতি দেয় ?
টিভির অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি মাহি ভিজ এবং জয় ভানুশালী তাদের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন । সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে তারা তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন । জয় এবং মাহি একটি যৌথ বিবৃতি শেয়ার করে জানান যে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, কিন্তু তারা তাদের সন্তানকে একসাথে লালন-পালন চালিয়ে যাবেন।
তাদের বিবাহবিচ্ছেদের খবর ভক্তদের হতবাক করে দিয়েছে। সম্প্রতি, মাহি তার “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” নাদিম কুরেশিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার ভালোবাসার কথা ঘোষণা করেছেন। অভিনেত্রী তার পোস্টে লিখেছেন যে তিনি “হৃদয় দিয়ে নাদিমকে বেছে নিয়েছেন” । মাহি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি শেয়ার করার সাথে সাথেই লোকেরা তার এবং নাদিমের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করে।
অতি সম্প্রতি, মাহি তার এবং নাদিমের সম্পর্ক সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্যকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার ইনস্টাগ্রামে, মাহি ভিজ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যাতে তিনি লোকেদের তিরস্কার করতে দেখা গেছে । এমনকি ওই সমস্ত “লোকেদের মুখে থুঃ” বলেছেন । ভিডিওতে মাহি বলেন, “তাহলে, সবাই আমাকে বলেছে এটা নিয়ে কথা না বলতে, এটা উপেক্ষা করতে, আর মিডিয়া যা করছে তা খুবই অদ্ভুত, এমনকি যারা এটা সম্পর্কে জানে তাদের জন্যও। আমরা এত সম্মানের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ করেছি বলেই, আমার মনে হয় না তোমরা এটা হজম করতে পারো। তোমরা বিতর্ক চাও, তোমরা নোংরামি চাও। এই সব কীভাবে হলো? তাহলে, নাদিম, যে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং সবসময় আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু থাকবে। আমি ছয় বছর ধরে তার সম্পর্কে পোস্ট করছি। আর ছয় বছর ধরে, তারা তাকে “আব্বা” বলে ডাকছে। জয় এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের মেয়ে তারা নাদিমকে আব্বা বলে ডাকবে। তোমরা আব্বা শব্দটিকে এত নোংরা করে ফেলেছো। একজন মানুষের কিছু একটা ইস্যু চাই । তোমাদের কর্মফলের ভয় নেই। তোমরা যেকোনো স্তরে নেমে যেতে পারো। আমি তোমাদের জন্য লজ্জিত, আমি তোমাদের উপর থুতু ফেলি।”
প্রসঙ্গত,প্রৌঢ় নাদিম কুরেশি হলেন হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সালমান খানকে তারকা হিসাবে মূলত তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে মনে কর হয় ৷ সেই সূত্রে নাদিম কুরেশি হলেন সালমান খানের শৈশবের বন্ধু এবং সালমান খান প্রোডাকশনের প্রধান। আপনারা হয়তো দ্য কপিল শর্মা শোতে নাদিম কুরেশিকে দেখেছেন, যেখানে সালমান খানকে নাদিমের প্রচুর প্রশংসা করতে দেখা গেছে । মাহি প্রায়শই কাজের জন্য সালমান খানের ফার্মহাউসে যেতেন, যেখানে তিনি সালমানের সিইও নাদিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। গত সপ্তাহে জয় ভানুশালীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর নাদিম কুরেশির প্রতি মাহি ভিজের ভালোবাসা প্রদর্শন ও তার মেয়ের নাদিমকে “আব্বা” সম্বোধন করা নিয়ে সঙ্গত কারনেই মানুষ তাদের গোপন সম্পর্কের বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন ।।

