এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,০৫ এপ্রিল : ‘বহুগামী’ স্বামীর স্বভাব চরিত্র নিয়ে প্রায়ই অশান্তি হত । সম্প্রতি সে ফের একটা বিয়ে করে ৷ কিন্তু প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে ঝামেলা বাধে । শুরু হয় শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার ৷ শেষ পর্যন্ত পথের কাঁটাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর শ্বাসনালী কেটে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে । চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকলের দক্ষিণনগর এলাকায় । পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সাখিনা বিবি (৩৮) । এদিকে আজ শনিবার সকালে পুলিশ বাড়ির শোবার ঘর থেকে মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের আগেই চম্পট দিয়েছে স্বামী আবুল বাশার মন্ডল । পুলিশ তাকে খুঁজছে ।
জানা গেছে,ডোমকলের রমনা বসন্তপুরে বাপের বাড়ি মৃতা সাখিনা বিবির । ডোমকলের দক্ষিণনগর এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার মন্ডলের সঙ্গে তার দেখাশোনা করে বিয়ে হয়৷ তাদের ১৭ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে । মৃতার মা সাকিনা বিবির অভিযোগ,’আমার জামাইয়ের চরিত্রের দোষ আছে । একটা ধরে এবং একটা ছাড়ে । এনিয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের প্রায়ই অশান্তি হত । প্রতিবাদ করলে সাখিনার উপরে মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার করত । বার দুয়েক এনিয়ে সালিসি সভাও বসে । কিন্তু জামাইয়ের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি ।’ তার অভিযোগ, বছর দুই ধরে মেয়েকে সংসারের কোনো খরচই দিচ্ছিল না জামাই । নিজের ছেলেকেও দিত না। আমাকে আর্থিক সাহায্য করতে হত । মেয়ে নিজে বিড়ি বেঁধে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছিল ।’
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে,বিউটি পার্লারে কর্মরত এক যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল আবুল বাশার মন্ডল । বছর খানেক আগে তাকে বিয়েও করে । তারপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে চলে যায় সে । দিন কয়েক আগে বাড়ি ফিরে এলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝামেলাও হয় বলে জানা গেছে । এরপর আজ সকালে শোবার ঘরের মধ্যে মহিলার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তার ছেলে । প্রাথমিকভাবে অনুমান,আবুল বাশার মন্ডল প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রীকে জবাই করে এবং পরে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরে । মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে পালিয়ে যায় । পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসে । ঘাতক স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ডোমকল থানার পুলিশ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতার পরিবার ।।