এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২০ জানুয়ারী : টি- সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা গুলশান কুমার হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল রউফ মার্চেন্টের মৃত্যু হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করা ৬০ বছর বয়সী আব্দুল রউফ মার্চেন্ট জেলে দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ ছিল । গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আব্দুল রউফ একবার মৃদু হৃদরোগে আক্রান্ত হয় । সেই সময় তাকে শহরের সরকারি ভ্যালি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে ৪ জানুয়ারি ২০২৬-এ তাকে পুনরায় জেলে পাঠানো হয়। তবে এর কয়েকদিন পরই, গত বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয়বার তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয় সে । তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ADR) মামলা দায়ের করেছে।
প্রসঙ্গত,মাফিয়া ডন সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিম যখন যখন মুম্বাই ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ইন্ডাস্ট্রিতে ইসলামিকরণের কাজ করছিল, সেই সময় হিন্দুত্ববাদকে গানের মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসার কাজ করছিলেন গুলশান কুমার । তিনি শুধু টি- সিরিজের প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না,পাশাপাশি একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু এবং চলচ্চিত্র প্রযোজকও ছিলেন । আর এই কারনে সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের রোষানলে পড়েন গুলশান কুমার ।
প্রকাশ্য দিবালোকে গুলশান কুমারের হত্যা
১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট মুম্বাইয়ের দক্ষিণ আন্ধেরি এলাকার জিতেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পূজো দিতে গিয়েছিলেন গুলশান কুমার । সেদিন কোনো দেহরক্ষী ছাড়াই পুজো দিতে গিয়েছিলেন তিনি। মহাদেবের পূজো দেওয়ার পর তিনি যখন মন্দিরের বাইরে আসেন তখন সকলের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় দাউদ ইব্রাহিমের সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের ৩ সদস্য । গুলশান কুমারকে লক্ষ্য করে পরপর ১৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয় । আব্দুল রউফ মার্চেন্ট ছিল সেই তিন সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম । গুলি চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা গুলশান কুমারকে বলেছিল,””বহুত পূজা কর লি, আব উপর যা কে করনা”। এই হামলায় গুলশান কুমারের চালকও গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সঙ্গীত জগতের এই মহাতারকা।
গুলশান কুমারের এই হত্যাকাণ্ড কেবল ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল না,বরং এর পেছনে মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড জগতের দাউদ ইব্রাহীমের আতঙ্ক,তোলাবাজি এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে পুরোপুরি ইসলামিকরণের বড় ষড়যন্ত্র ছিল । নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের ওপর আন্ডারওয়ার্ল্ডের ব্যাপক প্রভাব ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, গুলশান কুমারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছিল দাউদ ইব্রাহিম, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেছিলেন।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ২০০২ সালে আব্দুল রউফ মার্চেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৩ সালে তাকে ঔরঙ্গাবাদের হারসুল জেলে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে বোম্বে হাইকোর্ট কর্তৃক ফার্লো (কারাগারে ভালো আচরণের জন্য পুরষ্কার হিসেবে সাময়িক মুক্তি) মঞ্জুর হওয়ার পর সে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর ভারত থেকে পালিয়ে যায় । দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং গুলশান কুমার হত্যার মূল হোতা আব্দুল রউফ মার্চেন্টকে ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত করা হয় । পরে তাকে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয় । তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং আবারও হারসুল জেলে ফেরত পাঠানো হয়। তারপর থেকেই সে জেলেই ছিল । কিন্তু সাজা সম্পূর্ণ করার আগেই মারা গেছে এক সময়ে মুম্বাইয়ের ত্রাস দাউদ ইব্রাহীমের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী ।।

