এইদিন ওয়েবডেস্ক,হাওড়া,০৮ জুন : ভালো কাজের টোপ দিয়ে ডেকে এনে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সোদপুরের এক যুবতীকে হাওড়ার ডোমজুড়ের বাঁকড়ার নিজের ফ্ল্যাটে টানা পাঁচ মাস আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে আরিয়ান খান নামে এক যুবক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে । আর তাকে এই ঘৃণ্য কাজে সহযোগী করার অভিযোগ উঠেছে আরিয়ানের মা শ্বেতা খান ও বোন জোয়া খানের বিরুদ্ধে । দীর্ঘ ৫ মাস ধরে নৃশংস শারিরীক অত্যাচারের পাশাপাশি প্রতি রাতে যৌন অত্যাচারও চালানো হয়েছিল তরুনীর উপর ৷ এমনকি ওই তরুনীকে এবারের বকরি ঈদে ‘কুরবানি দেওয়ার হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ । গত শুক্রবার (৬ জুন) ভোরে সুযোগ পেয়ে নির্যাতিতা তরুনী কোনো রকমে পালিয়ে বাড়ি চলে এলে তার উপর ঘটে যাওয়া নৃশংস বর্বরোচিত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে । শনিবার বিকালে খড়দহ থানা ও ডোমজুড় থানার পুলিশ যৌথভাবে আরিয়ান খানের বাড়িতে হানা দেয় ৷ কিন্তু তার আগেই চম্পট দেয় ওই যুবকসহ গোটা পরিবার ৷ এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ওই যুবতী। জানা গেছে, মেয়েটির দাঁত ভাঙা, গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত, চুল কেটে ফেলা হয়েছে,তার কার্যত গোটা শরীরই আঘাতের চিহ্ন । তরুনীর উপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতা দেখে স্তম্ভিত চিকিৎসক ও নার্সরা ।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রোডাকশন হাউসের নামে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ছিল আরিয়ান ও তাঁর মায়ের। ইশারা নামক প্রডাকশন হাউস খুলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টর নাম করে মেয়েদের ডাকতো। টোপ দিত মোটা টাকার। তারপরই তাঁদের পর্নগ্রাফির ব্যবসায় নামানো হত। অন্যদিকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজ করতেন সোদপুরের ওই তরুনী । কর্মসূত্রে আরিয়ান খানের সঙ্গে তরুনীর পরিচয় হয় । ভালো কাজের টোপ দিয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তরুনীকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় আরিয়ান । তাকে পথমে পানশালায় কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয় । পাশাপাশি সেক্স র্যাকেটে যুক্ত হওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু আপত্তি জানান ওই সোদপুরের তরুনী । আর তারপর থেকেই বাঁকড়ার ওই ফ্ল্যাটে আটকে রেখে শুরু হয় নৃশংস বর্বরোচিত অত্যাচার । দিনের বেলায় আরিয়ান খানের মা শ্বেতা খান ও বোন জোয়া খান মিলে লোহার রড, শিলের নোড়া এবং কখনও ধারালো কাটারি দিয়ে তরুনীকে আঘাত করত । চুল কেটে ফেলা হয়, মেরে ভেঙে দেওয়া হয় দাঁত,বুকে দেওয়া হয়েছে সিগারেটের ছ্যাঁকা, ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয় গোপনাঙ্গ । দিনের পর দিন অভুক্ত রেখে দেওয়া হত তরুনীকে । ওই অবস্থাতেই দিন ও রাতে নিয়ম করে যৌন নির্যাতন চালানো হত । তরুণীর মায়ের দাবি, তাঁদের মেয়েকে এমন মার মারা হয়েছে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারছেন না তিনি।
এদিকে তরুনী কোনো রকমে পালিয়ে আসার পর গ্রেপ্তারি এড়াতে চম্পট দেয় আরিয়ান খান,মা শ্বেতা খান ও বোন জোয়া খান । আর সিসিটিভি বন্ধ করে তাদের পালাতে সাহায্য করেছিল আরিয়ানের ঠাকুমা। জানা গেছে যে আরিয়ান খান ও তার ,মা শ্বেতা খান বহু দিন থেকেই সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে । আরিয়ানের বিরুদ্ধে ছিনতাই-সহ নানা গুরুতর অভিযোগে মামলাও রয়েছে থানায় । কিন্তু তার পরেও এহেন এক দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে পুলিশ কেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।।

