এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২৬ মার্চ : গঙ্গা নদী পেরিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় টিউশন পড়তে এসেছিল এক ১৬ বছরের কিশোর । কাটোয়া-বল্লভপাড়া ফেরিঘাটের একটি নৌকায় ছেলেটি নিজের সাইকেল নিয়ে একধারে বসেছিল । সেই সময় কোনো ভাবে সে নদীর জলে পড়ে যায় । আজ বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ফেরিঘাট চত্বর । স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ যে ওই কিশোর জলে পড়ে যাওয়ার পরে নৌকার মাঝি বা ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ তাকে বাঁচানোর চেষ্টাই করেনি । এই অভিযোগকে ঘিরে ক্ষিপ্ত জনতা মারমুখী হয়ে পড়লে নৌকার মাঝিসহ ফেরিঘাটের লোকজন পালিয়ে যায়৷ ফলে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল । পরে কাটোয়া থানার পুলিশ বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের লোকজন এনে কিশোরের সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালায় । কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ।
জানা গেছে,নিখোঁজ কিশোরের নাম আকাশ সাহা (১৬)। তার বাড়ি নদিয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার বল্লভপাড়া এলাকায়৷ কাটোয়া ভারতীভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রতিদিনের মত আজ সকাল সকাল ৭ টা নাগাদ আকাশ বল্লভপাড়া থেকে সাইকেল সঙ্গে নিয়ে নৌকায় কাটোয়া এসেছিল টিউশন পড়তে । সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়ি ফিরিছিল । ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ছেলেটি সাইকেল রেখে যখন নৌকার একপাশে বসেছিল তখন কোনো ভাবে নদীর জলে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যায়৷ কিন্তু নৌকায় দুজন মাঝি বসে থাকলেও তাঁরা কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা করেননি বলে অভিযোগ তাদের ।
জানা গেছে,ছেলেটি জলে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে পড়ে পাড়ে বসে থাকা মোল্লা ও কালো শেখ নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দার । তারা দ্রুত জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই কিশোরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন৷ কিন্তু তারা ছেলেটির কোনো সন্ধান করতে পারেননি । এদিকে এক কিশোরের এভাবে নৌকা থেকে নদীর জলে পড়ে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনার কথা চাওড় হতে ফেরিঘাটে প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে যায় । তারা ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফেলতির অভিযোগ তুলে কার্যত মারমুখী হয়ে ওঠে৷ বেগতিক বুঝে নৌকা ও অফিস ফেলে পালিয়ে যায় ফেরিঘাটের লোকজন । স্থানীয়দের বিক্ষোভের জেরে কাটোয়া বল্লভপাড়া ফেরিঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল পর্যন্ত বন্ধ থাকে ফেরি চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপজ্জনক জায়গায় নৌকা লাগানোর কারণেই এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে । এর মাস তিনেক আগে ওই একই জায়গায় নৌকা থেকে পড়ে তলিয়ে গিয়েছিলেন কাটোয়ার বাগানেপাড়ার বাসিন্দা করিম শেখ নামে এক রিক্সাচালক। তারা পাড়ের কাছে নৌকা লাগানোর দাবি জানান৷
জানা গেছে,বল্লভপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকাশের বাবা প্রশান্ত সাহা পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি কর্মসূত্রে কেরালায় থাকেন। বাড়িতে রয়েছেন মা ফুলতুলসীদেবী এবং দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বৈশাখী । ঘটনার খবর পেয়েই তারা কাটোয়ায় ছুটে আসেন । এদিকে একমাত্র পুত্রসন্তানকে হারিয়ে ঘন ঘন মুর্ছা যাচ্ছেন ফুলতুলসীদেবী৷ ভাইকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল দিদিও ।।
