ঘটনাটি ২০১৯ সালের মহারাষ্ট্রের বল্লারপুর এলাকার । প্রগতি (Pragati) ছিলেন একজন ফর্সা, ছিপছিপে এবং সুন্দরী ৩২ বছর বয়সী বুদ্ধিমতী মহিলা। তিনি তার শরীরের সৌন্দর্য্য খুব ভালোভাবে বজায় রাখতেন । ছয় এবং দেড় বছর বয়সী দুটি কন্যা নারায়ণী এবং কার্তিকীর (Narayani and Karthiki) জন্ম দেওয়ার পরেও, তাকে ২৬-২৭ বছর বয়সী বলে মনে হত । তার স্বামী, ৩৮ বছর বয়সী ঋষিকান্ত কুদুপল্লি ( Rishikant Kudupalli) সরকারি আইআইটি কলেজের শিক্ষক ( teacher at an ITI college) ছিলেন। তিনি উচ্চ শিক্ষিত ও সংস্কারি পুরুষ । সুখের সংসার । কিন্তু শাহনওয়াজ খান (Shahnawaz Khan) নামে একজন স্থানীয় ট্যাক্সি ড্রাইভার পরিবারটির জন্য কাল হয়ে ওঠে ।
শাহনওয়াজের চোখ প্রগতির রূপ যৌবনের উপর পড়ে । প্রগতি যখনই বাড়ি থেকে বের হতেন, শাহনওয়াজ তাকে অনুসরণ করত । প্রগতি শাহনওয়াজের গোপন বাসনা টের পেয়ে যান। স্বামীর উচ্চ শিক্ষা এবং অভিজাত মর্যাদা প্রায়শই ভাসাভাসা চরিত্রের মহিলাদের মধ্যে বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । শাহনওয়াজও সহজেই এটা অনুমান করতে পেরেছিল । সে প্রেমের জাল বিছায় । প্রগতিও ফেঁসে যায় তার জালে । ঋষিকান্তের অনুপস্থিতিতে, শাহনওয়াজ বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেছিল ।জিহাদের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছিল… একজন সুন্দরী হিন্দু মহিলা একজন মুসলিমের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন !
খবরটি ঋষিকান্তের কাছে খবর পৌঁছে গেল… ঋষিকান্ত প্রগতি এবং শাহনওয়াজের সামনে সম্মান এবং নৈতিকতার আবেদন জানালেন… তিনি তাদের শিশু কন্যাদের শপথ নিতে বাধ্য করলেন… কিন্তু অনৈতিক কামনা নিষ্ঠুরভাবে পবিত্র সম্পর্কের উপর জয়লাভ করল…একদিন শাহনওয়াজের সাথে প্রগতি উধাও হয়ে গেল, দুই কন্যাকে কাছে রেখে গেল স্বামীর কাছে…. প্রগতিকে অনেকবার ফোন করেছিলেন ঋষিকান্ত, কিন্তু সে ফিরে আসেনি। এদিকে ঋষিকান্তকে একদিকে নিজের কাজ, পাশাপাশি অন্যদিকে দুই শিশুসন্তাকে সামলাতে হয়েছিল । একা হাতে পেরে উঠছিলেন না তিনি । ফলে তীব্র হতাশা আর অভিমান গ্রাস করে তাকে ।
২রা এপ্রিল, ২০১৯ তারিখে, সংবাদপত্রে একটি খবর প্রকাশিত হল যে ঋষিকান্ত দুই কন্যাকেই ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে… তারপর সে ১.৫ এবং ৬ বছর বয়সী ওই দুই নিষ্পাপ মেয়ের মৃতদেহের ছবি তোলে… সে ছবিগুলো হোয়াটসঅ্যাপে তার চরিত্রহীনা, পলাতক স্ত্রী প্রগতিকে পোস্ট করে… এবং তারপর তিনি নিজে আত্মহত্যা করেন… কোন সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি…মিডিয়া এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায় যে ঋষিকান্ত তার মেয়েদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে… ।
আসলে গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ মিডিয়াই চরিত্রহীনা ওই মহিলা ও লাভ জিহাদি শাহনওয়াজকে সুযোগ করে দেয় সেদিন । মিডিয়ার কল্পনা প্রসূত গল্প পুলিশকেও স্বস্তি দেয় । কারন,সহজ সমীকরণ….. ত্রিকোণ প্রেমের গল্প ! এদিকে শাহনওয়াজের তিনটি বাধা ইতিমধ্যেই দূর হয়ে গেছে…প্রগতির মাধ্যমে ঋষিকান্তের পুরো সম্পত্তিতে তার অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়ে গেছে! প্রগতির সাথে বিয়ের পথও পরিষ্কার ! এখন যেহেতু পুলিশ প্রমাণ করেছে যে মৃত ঋষিকান্তই অপরাধী এবং পুরো ট্র্যাজেডির কারণ, তাই মামলাটি অচিরেই বন্ধ হয়ে যায় !তদন্তের আর কোনও প্রয়োজন নেই! কিন্তু যে কোনও বিচক্ষণ ব্যক্তি একটু ভাবলে বুঝতে পারবেন যে আসল ঘটনাটি এটাও হতে পারে…..
মূল বিষয় হলো শাহনওয়াজ এবং প্রগতির অনৈতিক সম্পর্কে ও পালিয়ে যাওয়া… সম্ভবত শাহনওয়াজ একা অথবা প্রগতির সহযোগিতায় ঋষিকান্ত এবং তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে ! খুনের পর, শাহনওয়াজ ঋষিকান্তের মোবাইল ফোন থেকে দুই মৃত মেয়ের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রগতির মোবাইল ফোনে আপলোড করে… (দ্রষ্টব্য: ঋষিকান্ত খুনের বা দড়িতে ঝুলন্ত মেয়েদের লাইভ ছবি আপলোড করেনি… শুধু দড়িতে ঝুলন্ত মেয়েদের মৃতদেহের ছবিগুলো ছিল)… দারুন গল্প !
ঋষিকান্ত যদি আত্মহত্যা করত, তাহলে সে হোয়াটসঅ্যাপে অন্তত একটি লাইভ সুইসাইড নোট পোস্ট করতে পারত অথবা কাগজের টুকরোতে সুইসাইড নোট লিখতে পারত! কিন্তু সে তা করেনি… কেন ? মৃত্যুর আগে, ঋষিকান্ত তিনটি খুনের জন্যই শাহনওয়াজ এবং প্রগতিকে দোষারোপ করত… কিন্তু ঋষিকান্ত তা করেনি… কেন?
১০০% সম্ভাবনা আছে যে শাহনওয়াজই তিনজনের খুনি এবং প্রগতি এই খুনে সম্পূর্ণ জড়িত। পুলিশ রিপোর্টে নিখোঁজ শাহনওয়াজ এবং তার অনৈতিক সঙ্গিনী প্রগতিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করে । আসল মোড় হল পুলিশ এখন শাহনওয়াজের বিরুদ্ধেও খুনের অভিযোগ এনেছে। ফের লাভ জিহাদের হাড়িকাঠে একটি হিন্দু পরিবারের বলি হয়ে গেছে… সারা দেশে এরকম হাজার হাজার গল্প হয়তো একই রকম পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে !
তবে বিষয়টি শুধু লাভ জিহাদ হিসাবে মনে করাও এক তরফা ভাবনা হয়ে যাবে । হিন্দু সম্প্রদায়ের এক শ্রেণীর মহিলাদের চরিত্রের নৈতিক অধঃপতন অনেক সংসার ধ্বংসের কারন হয়ে দাঁড়াচ্ছে । আদিম প্রবৃত্তির নেশাকে তারা “প্রেমের টান” তকমা দিয়ে সমাজের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করে । সেই নেশায় তারা তাদের পরিবার ও ধর্ম ত্যাগ করতেও পিছপা হয়না । আবার ভবিষ্যতে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে পড়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এক সময় হেলায় ফেলে যাওয়া পরিবারকে ইমোশনাল ব্লাকমেল করতেও পিছপা হয় না । দোষ কার ?

