এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),০৬ জানুয়ারী : পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের আনখোনা গ্রামে কয়েকশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ধর্মরাজ মন্দিরের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে৷ সোমবার গভীর রাতে মন্দিরের গ্রিল ভেঙে বিগ্রহের যাবতীয় সোনা ও রুপোর অলঙ্কার লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা৷ সব মিলে ৫ লক্ষাধিক টাকার গহনা চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ । আজ মঙ্গলবার সকালে চুরির ঘটনা নজরে আসতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় গ্রামে । খবর পেয়ে ঘটনার তদন্তে আসে পুলিশ । গ্রামবাসীদের দাবি অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে চুরি যাওয়া গহনা উদ্ধার করার ব্যবস্থা করুক পুলিশ ৷ পুলিশ জানিয়েছে,ঘটনার তদন্ত চলছে ।
আনখোনা গ্রামের এই ধর্মরাজ মন্দিরটি অত্যন্ত প্রাচীন । বর্ধমানের মহারাজা স্বয়ং এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেব । বিগ্রহের নিত্যসেবার দায়িত্ব গ্রামের হাজরা পরিবারের ওপর দিয়ে যান তিনি । খরচ খরচার জন্য মন্দিরের নামে কিছু জমিও লিখে দিয়ে যান বর্ধমানের মহারাজা । সেই থেকে বংশপরম্পরায় দেবতার নিত্যসেবা ও বাৎসরিক উৎসবের দায়িত্ব হাজরা পরিবারই পালন করে আসছে । এলাকার মানুষের বিশ্বাস যে আনখোনা গ্রামের ধর্মরাজ অত্যন্ত জাগ্রত। অনেকে মানত করেন । মনস্কামনা পূরণ হওয়ার পর ভক্তরা দেবতার উদ্দেশ্যে সোনা ও রুপোর গহনা উৎসর্গ করে যান । এহেন একটি পবিত্র ধর্মস্থলে এই প্রকার চুরি মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার গভীর রাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চুরি করা হয় আনখোনা গ্রামের এই ধর্মরাজ মন্দিরে । চুরির সময় যাতে বাইরে থেকে কেউ বুঝতে না পারে সেজন্য দুষ্কৃতীদল মন্দিরের সদর দরজায় বাইরে থেকে খিল তুলে দেয়। এরপর মন্দিরের ভেতরের গ্রিলের তালা ভেঙে ঢুকে দেবতার সমস্ত সোনা ও রুপোর গহনা লুঠ করে পালায়। আজ মঙ্গলবার সকালে সেবায়েত নিত্যসেবার পূজো করতে এসে চুরির ঘটনা প্রথমে জানতে পারে । তার মাধ্যমে গ্রামবাসীরা মন্দিরে চুরির ঘটনার জানতে পারলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ।
উল্লেখ্য,কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গত কাটোয়া, কেতুগ্রাম,মঙ্গলকোট, অগ্রদ্বীপ প্রভৃতি স্থানগুলি হিন্দুদের প্রাচীন আধ্যাত্মিক স্থান বলে পরিচিত । মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম মিলে রয়েছে তিনটি সতীপীঠ । এছাড়া একাধিক স্থানে হিন্দুদের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন পবিত্র মন্দির রয়েছে । কিন্তু এই সমস্ত এলাকার মন্দিরগুলিতে মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে। বছরখানেক আগেও কেতুগ্রামের বেশ কিছু মন্দিরে পরপর চুরির ঘটনা ঘটেছিল। মাঝে এক বছর তেমন কোনো ঘটনা না ঘটলেও ফের এই চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ।।

