পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে জ্বলছে বাংলাদেশ৷ আন্দোলন রুখতে যেমন সেনাবাহিনীকে নামাতে হয়েছে, পাশাপাশি আন্দোলকারীদের উপর নৃশংস আক্রমণ চালাচ্ছে বিএনপি এবং জামাত ইসলামি । কিন্তু তাতেও দমানো যাচ্ছে না শ্রমিকদের আন্দোলন । কিন্তু কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল বাংলাদেশে ? “লুসিড ড্রিম” নামে বাংলাদেশের একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দাবি করা হয়েছে যে,এর নেপথ্যে কাজ করছে ভারতের মুক্ত বানিজ্য নীতি । যাকে “ভারতের মাদার অফ অল ডিলস” হিসাবে অবিহিত করা হয়েছে । আর এই চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে এতটাই পড়তে হতে পারে যে,এক ধাক্কায় বাংলাদেশের অন্তত দশ লাখ পোশাক শ্রমিক দশ লাখ পোশাক শ্রমিক । তাই বাংলাদেশ “কাঙলাদেশে” পরিনত হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা । কিন্তু পাশাপাশি এটাও আশঙ্কা করা হচ্ছে,বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে ভারতে নতুন করে অনুপ্রবেশের জোয়ার নামতে পারে । গত ৩০ জানুয়ারী ওই সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লেখা প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হল :
ভারতের মাদার অফ অল ডিলস ও বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ! কর্মহীন হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের অন্তত দশ লাখ পোশাক শ্রমিক ! ফ্রি ট্রেড সম্পর্কে যাদের নূন্যতম জ্ঞান নেই , ইউরোপের ২৭ টা দেশের সাথে ভারতের মুক্ত বাণিজ্যর গুরুত্ব এখনও যারা বুঝতে পারেননি , তারাই জাতিকে অন্ধকারে রেখে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবৈধ নির্বাচন করতে যাচ্ছে।এই নির্বাচনে পা দেওয়া মানেই বাংলাদেশ ধ্বংস। ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিক আপনারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করবেন না।একবার হলেও লেখাটি সবাই মনযোগ দিয়ে পড়ুন।
বিটিএমএ এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল কিছুদিন আগে বলেছিলেন , বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। নষ্ট হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাঁচামাল।৪০০ এর মতো পোশাক শিল্প কারখানা ইউনূস ক্ষমতায় ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
পোশাক শিল্পের রপ্তানি কমে গেছে প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিক এখন চোখে শুধুই অন্ধকার দেখছে। অথচ শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রাজত্ব করছে। তবে এখন কেন পিছিয়ে পড়ছে এই শিল্প?
প্রিয় পোশাক শ্রমিক,
পোশাক শিল্পকে বলা হয় বাংলাদেশের মেরুদন্ড। ইউনূস সরকার বাংলাদেশের এই মেরুদন্ড ভেঙে দিচ্ছে।৪০ – ৫০ লাখ মানুষের দুই বেলা আহারের একমাত্র প্রতিষ্ঠান পোশাক শিল্প আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে।এই ধ্বংসের শুরু হয়েছে মাত্র। কিন্তু ভবিষ্যতে যা হবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অন্যতম গন্তব্য হচ্ছে ইউরোপ।প্রতি বছর বাংলাদেশ ১৮ -২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ইউরোপে। দেশের মোট আয়ের ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ আসে ইউরোপের বাজার থেকে।সেই ইউরোপের বাজারে ইউনূস রাষ্ট্র ক্ষমতায় রপ্তানি নেমে এসেছে মাত্র ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। আর কয়দিন ভিক্ষার থলি নিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে হবে তা কি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এখনও বুঝতে পারছে না?
বাংলাদেশে একদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ভারতের সাথে ট্রানশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের ফলে ইতিমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া , ভারত দখলের হুমকি , সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেওয়ার হুমকি এসবে ইউনূস রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ধ্বংস হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।পোশাক শিল্পের কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া , ট্রাম্পের শুল্ক নীতি , ইউনূসের ব্যর্থ সরকার ব্যবস্থার খেসারত দিতে দিতে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানা। বাংলাদেশের শুধু ৬২ শতাংশ বিনিয়োগ কমেনি , রপ্তানি আয় কমে গেছে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা।
ইউনূস ক্ষমতায় মাত্র দেড় বছরে বাংলাদেশের ভেতর বন্ধ হয়ে ৫০ টি সুতার কলকারখানা।এতে বাংলাদেশের ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার! খয়রাতে পাকিস্তান হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোন ভবিষ্যৎ নাই।
শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় সফল রাষ্ট্রনায়কের মতো ভারত থেকে কম খরচে পোশাকের কাঁচামাল আমদানি করে পৃথিবীর দশ শতাংশ পোশাকের বাজার করে চীনের মত বৃহৎ রাষ্ট্রের সাথে টেক্কা দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। ইউরোপের বাজারের ১২ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের দখলে।আজ সেখানে ইউনূস ক্ষমতায় সেই রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।শেখ হাসিনা নেই মাত্র দেড় বছরেই কেন পোশাক শিল্প ধ্বংস?
ইউরোপের ২৭ টি দেশ ও আমেরিকার বাজারে ২,৬৩৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের কারণে সেভাবে পোশাক শিল্পে নজর দিতে পারেনি পৃথিবীতে পোশাক রপ্তানিতে চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভারত। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্য তথা ” মাদার অফ ডিল্’স ‘ এর কারণে এইবার ভারতের সামনে খুলে গেল ইউরোপের বিশাল অর্থনীতির বাজার। অপরদিকে ইউনূস প্রশাসন এখনও ভারত দখলের স্বপ্নদোষ নিয়ে রোজ ঘুমাতে গিয়ে ৪২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্প যেন আজ এক ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। চোখের জল ছাড়া পোশাক শ্রমিকদের সামনে দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই।
বাংলাদেশ ২০২৪ সালে ৫৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে, যার ৩৯ বিলিয়ন ডলার ছিল শুধুই পোশাক।আমেরিকায় ৭৩২ কোটি ডলারের পোশাক , বৃটেনে ৪৩৩ কোটি ডলারের পোশাক সহ পুরো ইউরোপের ১৯ – ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্পের বাজার হরাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।এই বাজারের পুরোটাই দখলে চলে যাবে তুরস্ক,ভিয়েতনাম,চীন ও ভারতের। বাংলাদেশের হাতে থাকবে একটা ” ভিক্ষার থালা।” এটাই হতে যাচ্ছে আগামী দু – এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এই বছর দশ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি কমেছে। আগামী বছর তা গিয়ে দাঁড়াবে ২০ বিলিয়ন ডলারে।এটা কোন ভবি বাণী নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের মতো এইভাবেই আপনার চোখের সামনে ধ্বংস হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের গর্বের পোশাক শিল্প ও ৫০ লাখ শ্রমিকের ভবিষ্যৎ।
বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৮০ শতাংশ হচ্ছে পোশাকশিল্প।এই পোশাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের অবস্থান সিরিয়া,লিবিয়া ও ইরাকের মতো হবে।আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আপনার ঘর থাকবে কিন্তু বিদ্যুৎ থাকবে না। কলকারখানার শ্রমিক থাকবে কিন্তু কলকারখানা থাকবে না। আপনার পেট পেটের জায়গায় থাকবে,কিন্তু পেটে দু’ বেলা ভাত নসীব হবে না। ভাবছেন, গল্প করছি! আদৌ এটা গল্প নয়। আগামী দু – এক বছরের মধ্যে এই কথিত গদি দখলকারীরা এই দেশের সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যাবে।এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতির ভবিষ্যৎ।আজ যারা নেচে গেয়ে গণভোটে অংশগ্রহণ করছে তারাই লুঙ্গি খুলে দু- এক বছরের মধ্যে হেলিকপ্টার আর জাহাজে করে পালিয়ে যাবে।তবে বেশীদূর যেতে পারবে না। এখন কান্নার সময় নয়, সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নিজ দেশের পোশাক শিল্পের দিকে তাকান :
আমাকে বলুন – কী ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন! কাঁচামাল কোথা থেকে আসে? কার সাথে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করেছেন? এখন শুধু হিসাবের খাতা খুলে রোজ মাশুল দিয়ে যাবেন। সময় থাকতে এই অভিশপ্ত সরকার, অভিশপ্ত নির্বাচন ও দেশ বাঁচাতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন।সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন, নিরাপদ বিনিয়োগ রাষ্ট্র,পরিকল্পিত অর্থ ও পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া আগামীর বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধে কোনভাবেই দাঁড়াতে পারবে না বাংলাদেশ।
আমেরিকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ভবিষ্যৎ বাণী বটমলেস বাস্কেট তথা “তলাবিহীন ঝুড়ি” সত্য হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্রই। দেশ আপনার , সিদ্ধান্ত আপনার। আমি শুধুই একজন বার্তাবাহক! সত্য সবসময় সুন্দর।
তবে দশ মাস আগে (৩০-০১-২০২৬)লুসিড ড্রিমের ভবিষ্যৎবাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে । বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়য়ে পড়ছে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন । বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করছে । কিন্তু বাংলাদেশের একের পর এক পোশাক কারখানা যেভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা ক্ষীণ । আর একটাই ভাবাচ্ছে ভারতকে । কারন ভারতে ফের অনুপ্রবেশের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হলেও এমন অনেক জায়গা আছে সেখানে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় । আর সেই সমস্ত দিক দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢেউ নামার সম্ভাবনা রয়েছে ।।
