এইদিন স্পোর্টস নিউজ,০২ নভেম্বর : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও শেষ হওয়ার পর গম্ভীর স্বীকার করেছেন যে, গত চার-পাঁচ মাস ধরে ক্রমাগত বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেট, ভিন্ন পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিত্ব সামলানো মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর ছিল। তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে এই ধরনের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তার আছে।
ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীর অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। একদিকে যেমন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় এবং ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা উদযাপিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই টেস্ট ক্রিকেটে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের ঘটনাও রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম ম্যাচ শেষে গৌতম গম্ভীর বলেন, ‘হ্যাঁ, সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে আমি মানসিকভাবে কষ্ট পাই। কিন্তু আমি মানসিকভাবে এতটাই শক্তিশালী যে তা সামলে নিতে পারি। যতদিন সম্ভব এই মানসিক চাপ সহ্য করার শক্তি আমার আছে। আমি এমনই একজন ব্যক্তিত্ব যে চাপ সামলাতে পারে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। মানুষ হিসেবে মাঝে মাঝে ক্লান্ত বোধ করাটা স্বাভাবিক।’ গৌতম গম্ভীর বলেন, “কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি সবকিছু দক্ষতার সঙ্গেই সামলেছি”।
যদিও দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন, চূড়ান্ত একাদশে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিজের সিদ্ধান্তে রাজি করানো কোচের জন্য একটি কঠিন কাজ। এ প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন যে, সবাইকে খুশি করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে দলের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন,”এটাই আমার কাজ। আমি আগেও বলেছি। আমার দায়িত্ব হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নয়। ড্রেসিংরুমে বসে সবার পছন্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ। কিন্তু আমার কাজ হলো ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের নিরাপদ বোধ করানো। যারা দীর্ঘদিন ধরে ভালো খেলছে, তাদের সমর্থন করা এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
একাদশে সুযোগ না পাওয়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা সবসময় সহজ নয় স্বীকার করে গম্ভীর বলেন যে, প্রধান কোচ হিসেবে সততা ও স্বচ্ছতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।একজন কোচ হিসেবে এই ধরনের আলোচনা সবসময়ই কঠিন। প্রতিটি আন্তর্জাতিক দলেই অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকে। আমি মনে করি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৎ থাকা, কিছু না লুকিয়ে সরাসরি কথা বলা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা খুব জরুরি।প্রধান কোচেরও একই দায়িত্ব। গম্ভীর বলেন, “আমি যদি এই কাজটা সততার সঙ্গে করি, তাহলে যেকোনো খেলোয়াড়ের চোখে চোখ রেখে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।”।
