এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাঞ্জাব,০২ নভেম্বর : ফের এক চাঞ্চল্যকর বিতর্কে জড়াল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টি শাসিত পাঞ্জাব পুলিশ । এবারে এক হিন্দু সাধুর ঘরে গাঁজা রেখে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে । পাঞ্জাবের খান্নায় মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়ির শোবার ঘরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন পুলিশ কর্মকর্তা একটি তোশকের নিচে কিছু একটা রাখছেন।পরে একই স্থান থেকে ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর দাবির পর মহন্তকে গ্রেপ্তার করা হয় ।
পাঞ্জাবের খান্নায় কথিত হেরোইন উদ্ধারের এই ঘটনাটি পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বাড়ির গোপন সিসিটিভি ফুটেজে এএসআই সুখদেব সিং-কে তোশকের নিচে কিছু একটা রাখতে দেখা যাচ্ছে । তার কিছুক্ষণ পরেই সেই একই জায়গা থেকে ৩০ গ্রাম হেরোইন ‘উদ্ধার’ করা হয়, যার ফলে মহন্ত কাশ্মীর গিরি গ্রেপ্তার হন।ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এসএসপি দর্পণ আহলুওয়ালিয়া এএসআই সুখদেব সিংকে বরখাস্ত করেন, একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেন এবং গিরিকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে,ক্যামেরায় যদি সত্যটা না ধরা পড়ত , তাহলে একজন নিরপরাধ সাধুকে কারাবাস করতে হত ।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এএসআই সুখদেব সিংকে বরখাস্ত করা হয়, অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভূমিকাসহ পুরো ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসপি-পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয় এবং অবিলম্বে গিরিকে মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের দাবি, কিন্তু সুখদেব সিংকে শুধু বরখাস্তই নয়, চাকরি থেকে চিরতরে অব্যাহতি দিয়ে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ খতিয়ে দেখা হোক ।
প্রসঙ্গত,এই ঘটনার সূত্রপাত হয় এর আগে মহন্ত কাশ্মীর গিরির চালকের ৭.৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকে, যিনি জিজ্ঞাসাবাদের সময় গিরিকে অভিযুক্ত করেন বলে অভিযোগ । এর মাধ্যমে পাঞ্জাবের বহুল আলোচিত মাদকবিরোধী কথিত প্রচেষ্টার ষড়যন্ত্রটি সামনে আসে। কিন্তু পাঞ্জাবে মাদক সরবরাহ হয় মূলত পাকিস্তান থেকে । আর এতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত খালিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী। যেকারণে তারাই মাদক বিরোধী অভিযানের সবচেয়ে বড় বিরোধী । এখন ষড়যন্ত্রকারী এএসআই সুখদেব সিংও ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না,সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা ।।

