এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০২ অক্টোবর : ফের খুন হয়ে গেলেন বাংলাদেশের এক হিন্দু ব্যবসায়ী । এবারে নৌকার মুসলিম সহযাত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় বেঘোরে প্রাণ দিতে হল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের শ্যামল চন্দ্র দাসকে । শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থানার পর অবশেষে রবিবার(১ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার হল শ্যামল দাসের পচাগলা দেহ ।
নিহত শ্যামল চন্দ্র দাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের স্বর্গীয় প্রমোদ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি পণ্য সরবরাহের কাজ করতেন । রায়পুরা ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্ট থেকে নৌকায় করে নিয়ে যেতেন আলোকবালি, বাখরনগর ও মুরাদ নগর বাজারে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন শ্যামলবাবু । তাঁর যাতায়াতের সঙ্গী ছিলেন খোদাদিল্লা গ্রামের নৌকার মাঝি রেজন মিঁয়া ও তাঁর ছেলে।
জানা যায়,গত ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে রেজন মিঁয়ার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরা ঘাট থেকে আলোকবালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শ্যামল চন্দ্র দাস। পণ্য সরবরাহের কাজ শেষে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে ফোন করে জানান, তাঁর কাজ শেষ। একই নৌকায় ফিরবেন তিনি।কিন্তু তারপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শ্যামলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টের লোকজন। তাঁরা ছুটে যান রেজন মিঁয়ার বাড়িতে। সেখানে তাঁর ছেলে জানান, শ্যামলকে দুপুর ১টার দিকে খোদাদিল্লা ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন। অথচ শ্যামলের নিয়মিত ফেরার কথা ছিল মনিপুরা ঘাটে।
বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানানো হলে তদন্তে নামে পুলিশ । সন্দেহের সূত্র ধরে পুলিশের সহায়তায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রেজন মাঝির ছেলে স্বীকার করে, সে শ্যামলকে মেঘনা নদীর মাঝপথে নীলক্ষার কিছু সন্ত্রাসীর হাতে তুলে দিয়েছিল।অবশেষে রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সলিমগঞ্জ এলাকায় নদীতে ভেসে ওঠে শ্যামল চন্দ্র দাসের পচাগলা দেহ। রেজন মিঁয়ার ছেলে পুলিশের জেরায় কবুল করেছে যে,পণ্য সরবরাহের পর শ্যামলবাবুর কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেহ নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে যে পরিচিত মানুষের সঙ্গে নৌকায় যাতায়াত করেছেন শ্যামলবাবু, তাদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই আজ প্রাণ দিতে হল তাকে ।
একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, যিনি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, টাকার লোভে তাঁকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো, তাও দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষের যোগসাজশে, এই ঘটনা স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে । শ্যামল চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে পরিবার ।।

