সুপ্রিম কোর্টের একটা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘আরশোলা’দের পার্টি হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কোনো গোষ্ঠী নয় । এর পিছনে ভারতের রেজিম চেঞ্জ (Regime Change)-এর এক সুপরিকল্পিত মার্কিন ষড়যন্ত্র রয়েছে । আর এই ষড়যন্ত্রের শরীক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি(আপ), বামপন্থী, কংগ্রেসের, তৃণমূল কংগ্রেস,সমাজবাদী পার্টি(সপা) এর মত রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি শাবানা আজমি,নাসিরুদ্দিন শাহ,প্রকাশ রাজ,প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবদের মত কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার ব্যক্তিত্বরা ।
‘আরশোলা’দের সামনে রেখে পরপর দু’বার রেজিম চেঞ্জ-এর ষড়যন্ত্র হয় ৷ প্রথমবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দ্বিতীয়বার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে কথিত আন্দোলন । প্রথম ক্ষেত্রে মোদী সরকার দু’পা পিছিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় ‘আরশোলা’দের কথিত আন্দোলন বর্তমানে স্তিমিত হয়ে গেছে । এই কথিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কংগ্রেসের “শাহজাদা” রাহুল গাঁধি চুপিসারে দেশ ছেড়ে ভিয়েতনামে চলে গেছেন । অবশ্য এই সমস্ত ‘নৈরাজ্যবাদীদের’ নিরুৎসাহিত করার পিছনে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী হিন্দুদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও আছে৷ এদিকে পরপর দু’বার মার্কিন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাকফুটে ডোনাল্ড ট্রাম্প ।
ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প সরকার এখন নরেন্দ্র মোদীর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে । গত সাত দিনে ভারতীয় ভূ-রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই এই বিষয়ে অবগত নয় । এই ঘটনাটি ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ! জানুন ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে ঠিক কি অবস্থানে আছে ভারত ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য একটি শোধনাগার খুঁজছিল। ভারতীয় শোধনাগারগুলো ভূ-রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষিত, সাশ্রয়ী এবং উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন । নিজেদের তেল পরিশোধনের জন্য ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তিতে প্রবেশ করা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো উপায় ছিল না।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানত যে, ভারতে তেল পরিশোধন করার অর্থ হলো ভারত তাদের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং অন্যান্য বিষয়েও হুমকি দিতে পারবে।এই সমস্যার মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় ছিল ভারতে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যাতে বড় কোনো হুমকি ছাড়াই তেল শোধনের কাজ চালানো যায়।
আর এই কারণে, তারা সিজেপি প্রতিষ্ঠা করে, মেটা ও এক্স-এর সাহায্যে এর প্রভাব বিস্তার করে, ডানপন্থী ভারতীয় চিন্তাবিদদের পদগুলো দমন করে এবং কংগ্রেস ও আপ সহ সমগ্র বামপন্থাকে একত্রিত করে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে।তারা তাদের সর্বশক্তি ব্যবহার করেছিল, কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদী হিন্দু জনগণ অবিচল ছিল এবং সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। এই দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য একমাত্র যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করে ।
আমেরিকা জানত যে ভারতে এত দ্রুত ক্ষমতার পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না এবং এতে অনেক দীর্ঘ সময় লাগবে। অন্য কোনো উপায় না থাকায়, যুক্তরাষ্ট্র সময় নষ্ট না করে ভারতকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়। এর পর, সমস্ত প্রতিবাদ হঠাৎ করে স্তিমিত হয়ে যায়। ভারতের ওপর আরোপিত অধিকাংশ শুল্ক তুলে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার সবুজ সংকেত দেয়।
এখন, এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে তার শর্তে রাজি হতে বাধ্য করার মতো অবস্থানে থাকবে। বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ এবং রপ্তানি বাড়ানোর জন্য এটি ভারতের কাছে একটি সুবর্ণ সুযোগ হবে। এটি সত্যিই এই দশকে ভারতের সবচেয়ে বড় ভূ- রাজনৈতিক বিজয় ! অন্যদিকে চরম হতাশাগ্রস্ত দেখা যাচ্ছে কংগ্রেসকে । সেই হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে গতকাল বিহারের পাটনায় ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যে । নিজের দলেরই এক কর্মীর প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এতটাই ক্ষিপ্ত হন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাপবাপান্ত করেন। যানিয়ে খাড়গের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ।
একই রকম লক্ষণ দেখা গেছে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের মধ্যেও । দুই দুয়েক আগে কলকাতায় বামপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত অনুষ্ঠানে এসে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে সমস্ত শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করেন । এরপর নাসিরুদ্দিনের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন আর এক অভিনেতা পিযুষ মিশ্র ।।

