এইদিন ওয়েবডেস্ক,তেলেঙ্গানা,২৪ অক্টোবর : তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের বশিরবাগের নাম পরিবর্তন করে “শ্রী রাম চক” রাখার দাবি তুলেছিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি । বিজয়াদশমী উদযাপনের সময় হায়দ্রাবাদের বশিরবাগ চৌরাস্তায় স্থাপিত ভগবান রামের একটি মূর্তি স্থাপন করা হয় । কিন্তু আজ শনিবার( ২৪ অক্টোবর) মুর্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনা চলাকালীন বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
মূর্তিটি কনক দুর্গা মন্দিরের নবরাত্রি উদযাপনের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। পৌর কর্মকর্তাদের নির্দেশে মন্দির কর্তৃপক্ষ মূর্তিটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আজ ভোরবেলা মুর্তিটি একটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় । বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর জাতীয় মুখপাত্র এবং ভাগ্যনগর গণেশ উৎসব সমিতি (বিজিইউএস)-এর সাধারণ সম্পাদক ডঃ রবিনুথালা শশীধর জনগণকে “বশির বাগ”কে “শ্রীরাম চক” বলে উল্লেখ করার জন্য আবেদন করার পর এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এই ঘটনাটি বিজেপি-র পক্ষ থেকে তীব্র আক্রমণের করা হয়েছে । বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি বলেন,’দশেরার সময় হিন্দু সংগঠনগুলির দ্বারা হায়দ্রাবাদের বশিরবাগে স্থাপিত শ্রীরাম মূর্তি অপসারণ কংগ্রেসের শ্রীরামের প্রতি ঘৃণাকেই প্রকাশ করে। যখন হিন্দু ধর্মবিশ্বাস ও সনাতন ধর্মকে ঘৃণা করার প্রশ্ন আসে, তখন কংগ্রেসের তোষণ রাজনীতির কোনো সীমা থাকে না।’
১৯শে অক্টোবর, শশীধর এক্স-এ মূর্তিটি দেখিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন এবং জনগণকে ওই মোড়টিকে “শ্রীরাম চক” নামে ডাকার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন যে, মূর্তিটির উপর একটি ছাদ এবং প্রস্তাবিত নামটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (জিএইচএমসি)-এর কাছে যাবেন।শশীধর তাঁর সমর্থকদের একটি টেমপ্লেট চিঠি ছাপিয়ে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি চেয়ে বিপুল সংখ্যায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন ।
গতকাল শুক্রবার, বিজেপি নেত্রী এবং সরুরনগরের প্রাক্তন কর্পোরেটর আকুলা শ্রীভানি ‘বশির’-এর পরিচয় এবং সমাজে তাঁর অবদান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে ‘বশির বাগ’ নামটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি সমর্থকদের প্রস্তাবিত নামটি জনপ্রিয় করার জন্য আহ্বান জানান এবং হায়দ্রাবাদের নাম পরিবর্তন করে ভাগ্যনগর রাখারও দাবি করেন ।
ভগবান রামের মূর্তি স্থাপন নিয়ে মজলিস বাঁচাও তেহরিক (এমবিটি)-এর মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খান আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জিএইচএমসি এবং হায়দ্রাবাদ সিটি পুলিশের অনুমতি ছাড়াই এটি স্থাপন করা হয়েছে। তিনিকর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেন, যার পরে পৌর কর্মকর্তারা মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে, মোড়টির নাম পরিবর্তনের প্রচারণার বিরুদ্ধে আগে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।আমজেদ উল্লাহ খান আরও জানতে চান যে, বশির বাগ চৌরাস্তার নাম পরিবর্তনের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে কিনা এবং ওই স্থানে মূর্তি ও যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা।।

