এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৪ অক্টোবর : শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিলক ভার্মার (অপরাজিত-৫১) বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সাহায্যে ভারত চার উইকেটে জয়লাভ করেছে। এর ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে। কিন্তু ভারতের এই জয় সহজ ছিল না । ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের এই পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানকে হারাতে হয় । সঞ্জু স্যামসন ১৪, অভিষেক শর্মা ২৭, বৈভব সূর্যবংশী ৪, শ্রেয়াস আইয়ার ৭ এবং অক্ষর প্যাটেল ১১ রানে যখন আউট হন তখন ১১ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ৭০ রান। ব্যাটসম্যানসহ মাত্র পাঁচজন অবশিষ্ট ছিলেন। কিন্তু ভারত এক বল বাকি থাকতেই কিউইদের হারিয়ে দেয়। এর পুরো কৃতিত্ব সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা, ফিনিশার নমন ধীরিন এবং অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির।
দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ক্রাইস্টচার্চে আবারও বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। দ্বিতীয় ওভারেই টিম সিফার্টকে আউট করেন আরশদীপ সিং এবং তৃতীয় ওভারে ড্যারিল মিচেলের ক্যাচ ফেলে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন ভুবনেশ্বর কুমার। এর পরপরই আউট হন ফিন অ্যালেন। এরপর গ্লেন ফিলিপস ও বেভান জ্যাকবস কিউইদের একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন। ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ রান এবং জ্যাকবস ৪৬ বলে ৫৮ রান করেন। চতুর্থ উইকেটেও একটি শত রানের জুটি গড়ে ওঠে। ২০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ১৮০/৫।
১৮১ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই রান তুলতে হিমশিম খায়। গত ম্যাচের তারকা সঞ্জু স্যামসন পঞ্চম ওভারেই আউট হয়ে যান । জ্যাকব ডাফির স্লো বল চিনতে না পারায় ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বলটি গ্লেন ফিলিপসের হাতে চলে যায়! ১৭ বলে সঞ্জুর অবদান ছিল মাত্র ১৪ রান। এর পরিবর্তে, বৈভব সূর্যবংশী মাঠে পা রাখতেই স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। কিন্তু পনেরো বছর বয়সী এই তরুণ চাপ সামলাতে পারেননি। নাথান স্মিথের রিংয়ের ফিল্ডারদের ওপর দিয়ে বল পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ড্যারিল মিচেলের জন্য সহজ ক্যাচ! বৈভব ৮ বলে ৪ রান করে ফিরে আসেন।
এরপর ব্যাট করতে আসেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। নবম ওভারের চতুর্থ বলে কিউই অধিনায়ক মিচ স্যান্টনার অভিষেককে স্মিথের হাতে তুলে দেন। অভিষেক ২১ বলে একটি ছক্কা ও তিনটি চারসহ ২৭ রান করেন। একাদশ ওভারে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল একই ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে আউট হয়ে যান । শ্রেয়াস সাত রান এবং অক্ষর ১১ রান নেন।
সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা শেষ ম্যাচে নায়ক নমন ধীরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভারতের আশাকে আবারও ডানা মেলতে সাহায্য করেন। ১৭ বলে ৩টি ছক্কা ও একটি চার মেরে নমন রানরেটের চাপ ভালোভাবে কমিয়ে আনেন। অন্যদিকে, তিলক ভালো স্ট্রোক প্লে খেললে স্কোর লাফিয়ে ওঠে। ১৫ ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ১১২ রান। ৩১ রান করা ধীরকে গ্লেন ফিলিপস ক্যাচ আউট করলে পরিবর্তে খেলতে নামা নীতীশ কুমার রেড্ডি সহজেই গতি খুঁজে পান। তিলক ভার্মা ২৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন । তিলক ২৬ বলে ৫১ রান করেন, যার মধ্যে একটি ছক্কা ও ছয়টি চার ছিল। নীতীশ কুমার রেড্ডি ১৩ বলে ২৬ রান করেন, যার মধ্যে একটি ছক্কা ও একটি চার ছিল। ভারত ১৯.৫ ওভারে ছয়টি উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য অর্জব করে।
স্যান্টনার কিউইদের এবং টুর্নামেন্টের সেরা বোলার ছিলেন, যিনি চার ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার প্রথম ম্যাচে একটিও উইকেট নিতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেটের খাতা খুলতে সক্ষম হন । এই ম্যাচের মাধ্যমে ভুবনেশ্বর কুমারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। তিনি শেষবার আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছিলেন ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এখন ভুবী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে একটি উইকেট পেতে সফল হয়েছেন।।

