এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৬ আগস্ট : “শুধু একটি পরিবার নয়, আমাদের বংশ নিশ্চিহ্ন করে দিল” : কাঁদতে কাঁদতে বললেন বাংলাদেশের রংপুরে সপরিবারে খুন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর দাদা গোপিনাথ চক্রবর্তী (৭০) । তিনি বলেন,’গণপতির ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীই ছিলো আমাদের বংশের শেষ পুত্র সন্তান।’গোপিনাথ চক্রবর্তী রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে খুনের শিকার গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) বড় দাদা । তিনি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় পুরোহিত এবং চার খুনের মামলার অভিযোগকারী ।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহত গণপতির বাড়িতে তাঁর, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৪) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) আত্মার শান্তি কামনায় শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন গোপিনাথ চক্রবর্তী। এসময় তাঁদের আত্মীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতিতে শ্রাদ্ধ শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, তাঁরা চার ভাই ছিলেন। দুই বড় দাদা অনেক আগেই মারা গেছেন। তিনি আর গণপতি বেঁচে ছিলেন। তাঁর কোন পুত্রসন্তান নেই। তাঁর দুই বড় দাদারও কোন পুত্রসন্তান নেই। গণপতির ছেলে প্রীয়ম ছিলো তাঁদের বংশের একমাত্র পুত্রসন্তান । তাকে খুন করায় বংশে বাতি দেওয়ার আর কেউ রইল না ।তিনি বলেন, ’প্রীয়ম বেঁচে থাকলে সেই আমাদের বংশকে বাঁচিয়ে রাখতো। এখন বংশে বাতি জ্বালানোর মতো আর কেউ রইলো না ।’ একথা বলে তিনি হাউহাউ করে কেঁদে ওঠেন ।
গোপিনাথ বলেন, তার ছোট ভাই গণপতি যখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলো তখন তাদের বাবা হেমন্ত চক্রবর্তী মারা যান। তিনি শৈশবকাল থেকে এলাকায় পৌরহিত্য করেন। তিনি বলেন,‘আমি পৌরহিত্যেরে উপার্জন থেকে গণপতিকে পড়াশুনা শিখিয়েছি। সে সরকারি চাকুরি পেয়েছিলো। আমাদের সকলের খেয়াল রাখতো গণপতি।’ ‘প্রীয়ম যদি বেঁচে থাকতো তাহলে মনে বল পেতাম। আমার পিতা হেমন্ত চক্রবর্তীর বংশ শেষ। আমার মৃত্যুর পর আমাদের বংশে আর কোন পুরুষ থাকবে না,’ তিনি বলেন।
নিহত গণপতির ভাইঝি সপ্তমী চক্রবর্তী জানান, ‘খুড়তুতো ভাই প্রীয়ম ছিলো আমাদের চোখের মণি। সে ছিলো আমাদের বংশের একমাত্র ভাই। প্রীয়ম বেঁচে নেই এটা আমা ভাবতেই পারছি না।’ তিনি বলেন, তাদের কাকা গণপতি ও তার পরিবারের সবাই খুন হওয়ায় তার বাবা গোপিনাথ খুবই ভেঙ্গে পড়েছেন। তিনি শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ধীমান ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল পযর্ন্ত শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান চলে। নিহতের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়। যেহেতু চারজনই খুন হয়েছে তাই চারদিনে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।’।
