এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২০ আগস্ট : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে এবিভিপি (ABVP)-র সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল এসএফআই (SFI) সমর্থকদের বিরুদ্ধে । এবিভিপির অন্তত চারজন সমর্থক জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে । বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । এবিভিপির বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নিখিল রায় গুরুতর আহত অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনে ধিক্কার বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জিবি (General Body) বৈঠক আহ্বান করা হয়। মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র প্রতিনিধিদের কাদের মধ্যে সই করার ক্ষমতা থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। যাদবপুরে এবিভিপি সমর্থকের সংখ্যা এখনও কম। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যথেষ্ট এবিভিপি সমর্থকরা আছেন। ফলে সেই বিভাগের কোনো সিদ্ধান্তে তাদের মত থাকে। দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় FETSU অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সংসদ অচল। তবু ক্ষমতা আছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর (SFI বাদ) হাতে । আর এনিয়েই এবিভিপি প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিবি (General Body) বৈঠক আহ্বান করা হয়। এই বৈঠকের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে এবিভিপি। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন নেই এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়নি; তাই বাম সংগঠনগুলো কীভাবে একা জিবি মিটিং ডাকতে পারে? অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিবাদ চলাকালীন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মিলে এবিভিপি সমর্থকদের ওপর আচমকা চড়াও হয়, যার জেরে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (SFI, DSO, DSF) এবং আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির (ABVP) মধ্যে এই দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।
এরপর রাত সাড়ে ১১ টার আশপাশে একদল জনতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মূলত বচসা বাঁধে খেলার মাঠে। সেখানে থাকা কিছু পড়ুয়া বা অপড়ুয়ার সঙ্গে হাতাহাতি হয় এই জনতার । দুপক্ষই একে অপরের কাছে মার খায়। এরপর ওই জনতা অরবিন্দ ভবনে পৌঁছয়।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে SFI সহ অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা অরবিন্দ ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। বাইরে জনতা তখন পতাকা জ্বালায়। দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। রাত সাড়ে ৩ টের পরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা অরবিন্দ ভবন থেকে বেরিয়ে বাড়ি পৌঁছন।
সংঘর্ষে এবিভিপির একাধিক ছাত্র নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বামপন্থীদের তরফেও আহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে । রাতেই কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন এবিভিপির বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নিখিল রায় সহ অনান্য আহতদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুর থানার সামনে ধিক্কার বিক্ষোভ দেখায় এবিভিপি এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া শুরু করে। বিধায়িকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছন। সেখানে বামপন্থী সৃজন ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তীর নাম করে হুশিয়ারি দেন তিনি।
এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে বাম ও অতিবাম সমর্থকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলিত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলা প্ররোচিত করেছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাদবপুরে এবার গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’
অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্রনেতা ও রেভোলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের (RSF) সদস্য অভিনব দাসের দাবি, এবিভিপি এবং এনএসএফ বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, বাম মনোভাবাপন্ন সাধারণ পড়ুয়াদের অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখা হয়, ইট-পাটকেল ছোড়া হয় এবং ক্যাম্পাসের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’-এর ডাক দিয়েছে ডিএসও (DSO)। অন্যদিকে এবিভিপির পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বড়সড়ো বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।।
