এইদিন ওয়েবডেস্ক,নদীয়া,১৫ আগস্ট : শুক্রবার রাতে নিজের এলাকায় সার্কিট হাউসে ওঠেন নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের “কালীঘাট তৃণমূল” সাংসদ মহুয়া মৈত্র । কিন্তু তাকে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে । মহুয়ার অভিযোগ যে,তাকে তার পছন্দের “মেটে চচ্চড়ি ভাত” পরিবেশন করার পর খাওয়া দাওয়া শেষে তাকে ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় । এদিকে মহুয়ার আসার খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা সার্কিট হাউসের গেটের সামনে জড়ো হয়ে “দেশদ্রোহী মহুয়া মৈত্র গো ব্যাক” শ্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মীরা ৷
সমগ্র ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মহুয়া বলেন,’আমি সার্কিট হাউসে ঢুকি বিকেল সাড়ে ৬ টায় । আমি সকালে বুকিং করেছি । সার্কিট হাউসে আমায় ঘর দেওয়া হয়েছিল । আমি ঘরে এসেছি । বিছানা টিছানা, বাথরুম সব ঠিক….যখন যখন আমি কৃষ্ণনগর যাই সার্কিট হাউসে থাকি । আমাকে ৭ টার সময় চা দিল । ৯.২০ তে আমাকে খাবার দিল । আমি মেটে ভালোবাসি । আমাকে ভাত, ডাল,মেটের তরকারি, বাঁধা কপি দিলো । আমি সব খেলাম । এরপর ৯ টা ৫০ নাগাদ আমায় এডিএম সাহেব বলছে আপনাকে ঘর ছাড়তে হবে ।’
শুক্রবার রাতেই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে এবিষয়ে অভিযোগ জানান মহুয়া । চিঠিতে মহুয়ার দাবি, গত ১৩ অগস্ট স্পিকারকে নিজের কেন্দ্রে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তার আবেদনও জানিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী, শুক্রবার কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে পৌঁছন তিনি। এরপরের ঘটনাক্রম তিনি উল্লেখ করেছেন চিঠিতে।মহুয়া জানান, সন্ধ্যা ৬টা ১৫ নাগাদ সার্কিট হাউসের প্রবেশ করেন তিনি। কর্মীরা তাঁকে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা ঘরে নিয়ে যান। সন্ধ্যা ৭টায় তাঁর ঘরে চা পাঠানো হয়, রাত ৯টা ২০ তে তাঁর ঘরে রাতের খাবারও পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে তাঁর কাছে একটি ফোন যায়।নদিয়ার অতিরিক্ত জেলা শাসক তাঁকে ফোন করে জানান যে সার্কিট হাউস ছাড়তে হবে তাঁকে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপর মহল থেকে নির্দেশ এসেছে’, তিনি কেবল বার্তাটি পৌঁছে দিচ্ছেন।
তার কথায়,রাত ১০টা ৫২ মিনিটে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছেন মহুয়া। এছাড়া একটি নির্দেশের কপিও পাঠানো হয়েছে, যাতে লেখা ছিল পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য সার্কিট হাউসে নতুন কোন বুকিং রাখা যাবে। তাই ঘর খালি করতে হবে। মহুয়ার দাবি, তিনি যখন বুকিং করেছিলেন, তখন কেউ তাঁকে কিছু জানায়নি, চেক-ইন করার সময়ও কেউ কিছু জানায়নি। সন্ধ্যায় পৌঁছনোর পর ঘর খালি করার কথা বলতে রাত ১০টা কেন বাজানো হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। পাশাপাশি তার জন্য সার্কিট হাউসে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ তার ।।
