এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগণা,১১ আগস্ট : আর জি কর-কাণ্ডের দু’বছর পরে অভয়ার দেহ সৎকার ঘিরে নতুন এফআইআর দায়ের হল । ‘অভয়া’র বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগে নাম রয়েছে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোর করে আটকে রাখার মতো একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার পানিহাটিতে ‘অভয়া’র স্মরণে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মৃতদেহ দাহের খরচ পরিবারের তরফে দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা রয়েছে। পানিহাটি শ্মশানঘাটে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত পদক্ষেপের বার্তাও দেন তিনি। তার পরেই খড়দহ থানায় এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা।
তাঁর অভিযোগ,ময়নাতদন্তের পর দ্রুত দেহ সৎকারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল । দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল । অভিযুক্তরা বাড়িতে গিয়ে শ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ অভয়ার বাবার।পরিবারকে শেষশ্রদ্ধা জানানোর পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলেও এফআইআরে দাবি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। আদালত সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।তবে অভয়ার মা-বাবার দাবি, ঘটনায় আরও ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁরা পূর্ণাঙ্গ পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন তদন্তকারী আধিকারিক নিয়োগ করে বিষয়টি ফের খতিয়ে দেখছে সিবিআই । ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে দেহ হস্তান্তর এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা জানতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তরও। সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়বে বলে খবর। এবারে এফ আই আর দায়ের করলেন অভয়ার বাবা । তার বিরুদ্ধে পুলিশ কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয় ।।

