এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১১ আগস্ট : পরিবারের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে প্রেমের টানে বছর দশেক আগে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন হিন্দু তরুনী প্রিয়া রানী দাস । নতুন নাম হয় মোসাম্মদ জেসমিন আখতার । ইসলামি রীতিতে বিয়ে বিয়ে করেন প্রেমিক মিজানুর রহমানকে । কিন্তু সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের ফেলে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে বেপাত্তা হয়ে গেছেন মিজানুর । এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই ও দু’মুঠো ভাতের জন্য লোকের দরজায় দরজায় ঘুরছেন জেসমিন আখতার । তিনি বলেন,’মুই এখন কই যামু। বাপের বাড়ি যাওয়ারও উপায় নেই । ভিক্ষাও দিচ্ছে না কেউ । মরন ছাড়া কোনো রাস্তা নেই আমার ।’
জানা গেছে,সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের গোপাল দাসের মেয়ে প্রিয়া রানী দাস । ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নুরপুর পাঠালিসা গ্রামের মহম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । তারপর পরিবারের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে ১০ বছর আগে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান ওই মহিলা । ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নোটারি কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করে প্রিয়া রানী দাস থেকে মোসাম্মদ জেসমিন আখতার হন । ইসলামি রীতিতে বিয়ে করেন প্রেমিক মিজানুর রহমানকে । দীর্ঘ ৯ বছর সংসার করার পর তাদের এক মেয়ে ও দুই পুত্রসন্তানের জন্ম হয় ।
কিন্তু সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের ফেলে রেখে ফের অন্যত্র বিয়ে করেছেন মিজানুর রহমান । বর্তমানে ৯ বছরের এক মেয়ে এবং সাড়ে তিন ও ৯ মাস বয়সী দুই ছেলেকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন মোসাম্মদ জেসমিন আখতার। প্রিয়া রানী ওরফে জেসমিন আক্তার বর্তমানে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে খাচ্ছে! পেটের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েও শান্তি নেই। অনেকেই তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে, ভিক্ষাও দিচ্ছে না, সাহায্যও করছে না বলে জানান তিনি৷ এখন তিনি দেশ বিদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য কাতর আবেদন জানিয়েছেন ।।
