এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),১০ আগস্ট : শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার ভগবান শিবের জলাভিষেকের জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলায় পূণ্যার্থীদের ঢল নামে ৷ আজ সেই পুণ্যলগ্ন । হাজার হাজার পূণ্যার্থী বিভিন্ন গাড়িতে চড়ে কাটোয়ার ভাগিরথীতে পূণ্যস্নান করে দুই কলসে জল ভরে বাঁকে করে শিবমনন্দিরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন ৷ কিন্তু ফেরার পথেই মর্মান্তিক মৃত্যু হল জিৎ মাজি নামে ভাতারের বছর কুড়ির এক যুবকের । বর্ধমান- কাটোয়া রাজ্য সড়ক ধরে বাঁক কাঁধে পায়ে হেঁটে ভাতারের মুখে আসার সময় মঙ্গলকোটের কৈচরের কাছে আচমকাই মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। সঙ্গীরা তাঁকে শুশ্রূষা করে কিছুটা সুস্থ করে তুললে ফের হাঁটা শুরু করেন জিৎ । কিন্তু কিছুটা এগোতেই ফের রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। দুর্ভাগ্যবশত এবার আর উঠতে পারেননি । হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । একজন তরতাজা যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়।
জানা গিয়েছে, সগরার বাসিন্দা মহেশ্বর মাজির বড় ছেলে জিৎ। ছোট ছেলে পরমেশ্বর (১৪) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। মহেশ্বর একটি চালকলে কাজ করেন। জিৎ-এর মা বহু বছর আগেই স্বামী ও দুই সন্তানকে ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছেন ।প্রতিবন্ধী ভাইকে দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল জিতের উপর ।
জানা গেছে,রবিবার গ্রামের কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে কাটোয়ায় গঙ্গায় জল আনতে গিয়েছিলেন জিৎ। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে গ্রামের শিবমন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন। সোমবার সকালে সগরায় পৌঁছনোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় কৈচরের কাছে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন জিৎ। প্রতিবেশী বাপন মাজি বলেন,’জল নিয়ে আসার সময় হঠাৎ পড়ে যায় জিৎ। সঙ্গীসাথীতা তাঁকে তুলে শুশ্রূষা করলে কিছুটা সুস্থ হয় । পরে মনের জোরে ফের হাঁটতে শুরু করে জিৎ । কিন্তু কিছুটা যাওয়ার পর ফের পড়ে যায়। এবার আর উঠতে পারেনি।’ এরপর যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, হৃদ্রোগজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের । সোমবার তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।।

